বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ডাকবাংলো এলাকায় সেতু বাস্তবায়ন কমিটির অর্থ সম্পাদক ব্যবসায়ী আহাদ জানান, বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দুই টাকা করে চাঁদা তোলা শুরু হয়। সপ্তাহে রোববার ও বুধবার প্রতিটি দোকান থেকে দুই টাকা করে চাঁদা তুলে সেতুর জন্য তহবিল শুরু করা হয়। ১৯৯২ সালে ব্যবসায়ীদের অর্থে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ধীরে ধীরে দুই টাকা চাঁদা দিয়েই সেতুর পাঁচটি পিলার তৈরি করা হয়। তিনি জানান, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে স্থানীয় সাংসদ আবদুস সামাদ আজাদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি এলজিইডিকে সেতুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।

জগন্নাথপুর বাজারে প্রবীণ ব্যবসায়ী বিনয় ভূষণ বণিক বলেন, ‘দুই টাকা করে চাঁদা দেওয়ার পাশাপাশি সেতু নির্মাণের জন্য অনেকেই রড সিমেন্ট দিয়েছেন। আমার রড সিমেন্টের দোকান থেকে আমি সেতুর জন্য এক টন রড ও একশত বস্তা সিমেন্ট দেই।’

সেতু নির্মাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ঠিকাদার জগন্নাথপুর গ্রামের নুরুল হক বলেন, সেতুটির পিলার ব্যবসায়ীদের দুই টাকার চাঁদায় নির্মাণ করলেও ঢালাই ও রেলিংয়ের কাজ এলজিইডি বাস্তবায়ন করে। পরে ১৯৯৬ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ সেতুর উদ্বোধন করেন।

জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক এম এ কাদির বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে নলজুর নদী খননের সময় অপরিকল্পিত খননে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নেশন টেক লিমিটেডের লোকজন সেতুর পিলারের কাছাকাছি খনন করায় সেতুর দুই পিলারের ৬০ ফুট জায়গা দেবে যায়। আমরা নতুন সেতু নির্মাণের পাশাপাশি দ্রুত পাঁয়ে হেঁটে সেতু দিয়ে চলাচল করতে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এলজিইডির জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সেতুটি দেবে যাওয়ার পর পর বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। নতুন সেতু নির্মাণ ও আপাতত পাঁয়ে হেঁটে চলাচল করতে করণীয় ঠিক করতে প্রচেষ্টা চলছে।’

গত ২ মে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান দেবে যাওয়া সেতু পরিদর্শন করে বলেন, দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে তিনি এলজিইডির সঙ্গে কথা বলেছেন। শিগগিরই প্রকৌশলীরা সেতুটি পরিদর্শন করে আপাতত চলাচলের ব্যবস্থা নেবেন এবং নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন