শিব্বির আহমেদ বলেন, তদন্ত দলের কাছে প্রথমে ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা বলেন, পানির তোড়ে শাটারিং সরে যাওয়ায় সেতুটি দেবে গেছে। এ সময় তদন্ত দলের সদস্যরা বলেন, এটি একটি ঠুনকো যুক্তি। এরপর পুনরায় নির্মাণের অঙ্গীকার করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

টাঙ্গাইল পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন টাঙ্গাইল পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। ৮ মিটার প্রস্থ ও ৪০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টাকা। ঢাকার ব্রিকস অ্যান্ড ব্রিজ লিমিটেড এবং দ্য নির্মিতি নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি বাস্তবায়ন করছে।

২০২০ সালের ৫ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতু নির্মাণের চুক্তি সম্পাদন হয়। কিন্তু টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা জামিলুর রহমান খানের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ১০ জন নেতা-কর্মী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন।

পৌরসভা সূত্রে আরও জানা গেছে, দরপত্রের শর্তানুযায়ী সেতুর শাটারিংয়ে এমএস পাইপ ব্যবহারের কথা। কিন্তু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতারা গাছের গুঁড়ি ব্যবহার করেন। এ কারণে ১৬ জুন রাতে সেতুর ১ হাজার ৩০ মিলিমিটার দেবে যায়। নিম্নমানের কাজ করায় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী গত ১৫ মার্চ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দেন। তবে সেই নোটিশ গ্রহণ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা জামিলুর রহমান খান। দুবার নোটিশ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে গত ১১ মে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একটি অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এমএস পাইপের পরিবর্তে কাঠের গুঁড়ি ব্যবহার করে ঢালাই চলাকালে সেতুটির কোনো ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বহন করবে।

সেতুটি নির্মাণকাজের দায়িত্ব পাওয়া ব্রিকস অ্যান্ড ব্রিজ লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মোল্লা মুহাম্মদ মাসুদ বলেন, তাঁরা এবার নিজেদের তত্ত্বাবধানে সেতুটি পুনরায় নির্মাণকাজ করবেন। তাঁদের সঙ্গে আগে নির্মাণের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় ঠিকাদারেরাও থাকবেন। তবে সবকিছু তিনিই দেখাশোনা করবেন।

মোল্লা মুহাম্মদ বলেন, সেতুটি নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবকিছুই তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। দরপত্রের শর্ত মেনে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেতুটি ভেঙে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন