বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কাদের মির্জা বলেন, ‘বিএনপি দুর্নীতিতে চার-পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আজ আপনারা চ্যাম্পিয়ন না, আরও বড় চ্যাম্পিয়ন হবেন, যদি এখন খোঁজ–খবর নেন। আপনাকে শেষ করে দিতেছে, নেত্রী। আপনার সব অর্জন শেষ করে দিতেছে। রাজনীতিবিদ, প্রশাসন দুর্নীতি করে আপনার সব অর্জন নষ্ট করে দিতেছে। ৪৭ বছর রাজনীতি করি। একজন কর্মী হিসেবে এসব মেনে নিতে পারি না।’

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করতে গিয়ে জাতীয় নির্বাচন, দলের সাংসদ, মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে কথা বলে আলোচনায় আসেন কাদের মির্জা। এরপর কথিত সত্যবচনের নামে বড় ভাই ওবায়দুল কাদের ও ভাবি ইশরান্নেসা কাদেরের বিরুদ্ধে তিনি নানান অভিযোগ করেন। তিনি ভাবির বিরুদ্ধে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগও করেন। এসব কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগে বিভক্তি দেখা দেয়, যা পরে সংঘাতে রূপ নেয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন নিহত হওয়া ছাড়া হামলার শিকার হয়ে দুই পক্ষের অনেক নেতা-কর্মীও পঙ্গুত্ব বরণ করেন এবং আহত হন।

কাদের মির্জাবলেন, ‘বিরোধীদলীয় সাংসদ মশিউর রহমান রাঙা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার বিরুদ্ধে বিচার দিয়েছে। রাঙা সাহেব পরিবহনজগতের শ্রেষ্ঠ চাঁদাবাজ। পরিবহনজগৎকে ধুয়ে–মুছে খেয়েছেন আপনি, আজকে বড় বড় কথা বলেন।’

সংবাদ সম্মেলনে কাদের মির্জা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। আপনারা জানেন, ষড়যন্ত্রকারীদের নীলনকশায় বিরোধীদলীয় সাংসদ মশিউর রহমান রাঙা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার বিরুদ্ধে বিচার দিয়েছে। আমি নাকি সন্ত্রাসী, আমি নাকি বিতর্কিত। এই রাঙা সেই রাঙা, যে রাঙাকে প্রধানমন্ত্রী পৌরসভার মেয়র থেকে মন্ত্রী করেছেন। আজ সেই রাঙা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন স্বৈরাচার। রাঙা সাহেব পরিবহনজগতের শ্রেষ্ঠ চাঁদাবাজ। পরিবহনজগৎকে ধুয়ে–মুছে খেয়েছেন আপনি, আজকে বড় বড় কথা বলেন।’

আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাংবাদিক মুজাক্কির (বুরহান উদ্দিন ওরফে মুজাক্কির) হত্যার ঘটনায় জড়িত একজনের নাম উল্লেখ করে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘মুজাক্কির হত্যার ঘটনায় জড়িত ফাল্গুন (ইকবাল হোসেন ওরফে ফাল্গুন) এখন কোথায়? ঘটনার পর বাদল-রাহাত তাঁকে প্রথমে ভারত পাঠিয়ে দিয়েছেন। তারপর সেখান থেকে কাতারে পাঠানো হয়েছে। সঠিক তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।’

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা বিলম্বের সমালোচনা করে কাদের মির্জা বলেন, ‘৯ তারিখে আশা করেছিলাম কমিটি দেবে। সেটাও হয়নি। বলে, স্বপন ইন্ডিয়া গেছে। সে দেশে এলে কমিটি দেবে। এখন বলবে নেত্রী গেছে যুক্তরাষ্ট্রে, উনি আসুক। আর এ দিকে একরামের রামরাজত্ব চলছে পুরো নোয়াখালীতে।’

এদিকে সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলার আসামিকে ভারত হয়ে কাতার পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাদের মির্জার ভাগনে ফখরুল ইসলাম ওরফে রাহাত। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, তিনি এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাঁকে হেয় করার জন্যই কাদের মির্জা মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন