default-image

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর। সে সময় সংগঠনের জেলা কমিটির নেতারা শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন। এর প্রায় দেড় বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশিত হয়েছে। এ কমিটি নিয়ে দলের নেতা-কর্মীরা ফেসবুকে নানা সমালোচনা করে পোস্ট দিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবরের কাউন্সিলে সভাপতি পদে বদরুল হোসেন একক প্রার্থী ছিলেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন একাধিক প্রার্থী। পরে পদপ্রত্যাশীদের মতামতের ভিত্তিতে এ পদে মাসুক আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়। গতকাল বুধবার রাতে দলের বিভিন্ন নেতার ফেসবুকে ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি–সংবলিত দলীয় প্যাডের ছবি পোস্ট করা হয়। মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাংসদ নেছার আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান এ কমিটি অনুমোদন করেছেন। ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর এ কমিটি অনুমোদন করা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর। প্রায় দেড় বছর পর ফেসবুকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশিত হয়েছে। এই কমিটি নিয়ে হচ্ছে নানা সমালোচনা।

এদিকে কমিটি প্রকাশ হওয়ার পর আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফেসবুকে কমিটিতে পদ পাওয়া তাঁদের পছন্দের বিভিন্ন নেতার ছবি-পদবি দিয়ে ‘অভিনন্দন’ জানানো শুরু করেন। পদ পাওয়া নেতারাও স্থানীয় সাংসদ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। আবার কেউ কেউ কমিটি নিয়ে নানা সমালোচনাও করেন।

বিজ্ঞাপন

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে প্রথম সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পাওয়া মাহবুবুল ইসলাম ফেসবুক পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, কোন মাপকাঠিতে পদ-পদবি প্রদান করা হয়েছে, তা তাঁর বোধগম্য হয়নি। রাজনৈতিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, বয়স ও মেধায় পিছিয়ে থাকা অনেককে অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে। আবার তুলনামূলক যোগ্য ও অভিজ্ঞ অনেককে কম গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রদান করা হয়েছে। এটা সুস্থ রাজনীতিচর্চার লক্ষণ নয়।

কমিটি করতে গেলে পক্ষে-বিপক্ষে কথা আসবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটি করার চেষ্টা করেছি আমরা। অযোগ্যরা স্থান পাননি। তবে কিছু যোগ্য লোক বাদ পড়তে পারেন। তাঁদের ইউনিয়ন বা সহযোগী অন্য সংগঠনে স্থান দেওয়া হবে।
নেছার আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাংসদ

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গণমাধ্যমকর্মী মঞ্জুরে আলম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রশ্ন করেছেন, ‘স্থানীয় বাসিন্দা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন এবং পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রবীণ নেতা গোপিকা অধিকারী কি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়ারও যোগ্যতা রাখেন না?’

কেউ কেউ কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতি এবং কমিটিতে বিএনপির লোকজন ঢুকে পড়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন।

কাউন্সিলের প্রায় দেড় বছর পর কমিটি প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ নেছার আহমদ আজ বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিসহ নানা কারণে কমিটি প্রকাশে দেরি হয়ে গেছে। সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বড় রাজনৈতিক দল। কমিটি করতে গেলে পক্ষে-বিপক্ষে কথা আসবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটি করার চেষ্টা করেছি আমরা। অযোগ্যরা স্থান পাননি। তবে কিছু যোগ্য লোক বাদ পড়তে পারেন। তাঁদের ইউনিয়ন বা সহযোগী অন্য সংগঠনে স্থান দেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন