বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মাছখোলা গ্রামের লুৎফর রহমান জানান, এসব এলাকার পানিনিষ্কাশনের সব পথ বন্ধ করে মানুষ অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের করেছে। ফলে পানিনিষ্কাশন হতে পারছে না। পাশাপাশি বেতনা নদী ভরাট হয়ে নদীর বুক উঁচু হয়ে যাওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। এ কারণে মানুষের এই দুর্দশা। এ সমস্যা সমাধানে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকরী উদ্যোগ নেই। রোদে পানি শুকানো ছাড়া এলাকার মানুষ এ দশা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না।

সুদুরডেঙ্গী গ্রামের মহসিন হোসেন বলেন, ঘরের মধ্যে হাঁটুপানি। জিনিসপত্র সব নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি মাচা করে বসবাস করছেন। ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি রেখে এসেছেন। করোনার মধ্যে কাজ করতে পারেননি। কী খাবেন তার ঠিক নেই। পানির মধ্যে বন্দী হয়ে এভাবে চলছে দেড় মাস ধরে।

একই এলাকায় কুলিনপাড়ার নবদ্বীপ সরকারের উঁচু ভিটায় পাকা বাড়ি। চারদিকে পানি ঘিরে রেখেছে বাড়িটি। দুই থেকে তিন ফুট পানির মধ্যে এখানে ৩২ পরিবার একপ্রকার ডুবে রয়েছে। নবদ্বীপ জানান, ঘর থেকে কেউ বের হতে পারে না। শিশুরা খেলাধুলা করতে পারে না। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। পানির মধ্যে চলতে চলতে এ এলাকার অধিকাংশ মানুষের পায়ে ঘা দেখা দিয়েছে।

default-image

সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ বলেন, মানুষ অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি তৈরি করেছে ড্রেনেজব্যবস্থা না করে। পাশাপাশি মাছের ঘের করে পানিনিষ্কাশনের খালগুলো দখলে রেখেছে ঘেরমালিকেরা। সবচেয়ে বড় সমস্যা বেতনা নদী ভরাট হয়ে এসব এলাকার চেয়ে উঁচু হয়ে গেছে। ফলে পানিনিষ্কাশন হতে পারছে না। মানুষের এ সমস্যা দূর করতে ছাকলার গেট এলাকায় পানির সেচ মেশিন বসিয়ে পানি বেতনা নদীতে দেওয়া হচ্ছে ১৫ দিন ধরে। কিন্তু মাঝেমধ্যে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় সমস্যা দূর হতে দেরি হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, জনদুর্ভোগ লাঘবে খাল ও ঘেরমালিকদের দেওয়া অবৈধ নেট-পাটা অপসারণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কীভাবে পানিনিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা যায়, সে ব্যাপারেও চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন