বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন আমিরের এক ভাই জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দুই বছর বয়স থেকেই আমিরকে অন্য রকম মনে হতো। অন্য বাচ্চাদের মতো কথা বলা বা হাঁটাচলা করতেন না। সবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। মাঝেমধ্যে মারামারিও করতেন। পরবর্তী সময়ে ছয় থেকে সাত বছর বয়সে পরিবারের লোকজন বুঝতে পারেন, আমির আর দশজনের মতো নন। তখন থেকে নানা স্থানে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। অনেক চেষ্টা করেও ভালো করা যায়নি। পাবনা মানসিক হাসপাতালেও নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা, কিন্তু আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় ঠিকমতো চিকিৎসা আর চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আমির আগে ছাড়া অবস্থায় ছিলেন। এই সময়ে মাঝেমধ্যে হারিয়েও গিয়েছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়। এই অবস্থায় ২০০৪ সাল থেকে আমিরকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন পরিবারের সদস্যরা। দিনের বেশির ভাগ সময় তাঁকে বেঁধে রাখা হয় বাড়ির পাশের একটি গাছে। এখানেই খাবার দেওয়া হয়। রাত হলেই ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।

আমিরের জন্য প্রতিনিয়তই কান্নাকাটি করেন ৭০ ছুঁই ছুঁই মা ফাতেমা খাতুন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলেটার কী হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ফাতেমা বলেন, ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকেন তিনি। রাতে খেয়াল রাখতে হয় এলোমেলো কিছু করে ফেলছেন কি না। তবে অনেক দিন বেশি খারাপ আচরণ করলে ঘরেও বেঁধে রাখা হয়। বাইরের কেউ কাছে গেলে কখনো ভালোবাসেন, আবার কখনো মারতে যান। তবে কোনো কিছুর ওপর তাঁর কোনো আগ্রহ নেই। কাউকে কাছে পেলে টাকা চাইবেন, কিন্তু হাতে পাওয়ার পর ফেরত দিয়ে দেবেন।

এ বিষয়ে প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমির যখন ছাড়া থাকতেন, তখন রাস্তায় রাস্তায় থাকতেন। কখনো মানুষের সঙ্গে তেমন খারাপ আচরণ করেননি। হঠাৎ খারাপ আচরণ শুরু করলে তাঁর পরিবার বেঁধে রাখতে বাধ্য হচ্ছে। আমির উদ্দিন দেখতে সুস্থ-সবল একজন মানুষ। বোঝার উপায় নেই তাঁর শরীর খারাপ বা তিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। একটু ভালো চিকিৎসা হলে ভালো হলেও হতে পারতেন। কিন্তু অর্থের কারণে হচ্ছে না। পরিবারটি খুবই দরিদ্র হওয়ায় ইচ্ছা থাকলেও ভালো চিকিৎসা করাতে পারছে না।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সুলতান আহম্মেদ বলেন, রোগীর বর্তমান যে অবস্থা তাতে সম্পূর্ণ সুস্থ করা যাবে কি না, তা নিয়ে ভাবার বিষয় রয়েছে। তবে আচরণগত সমস্যাগুলো দূর হবে, এটা বলা যায়। এ ক্ষেত্রে একজন মানসিক চিকিৎসককে দেখানো জরুরি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন