সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটে দেখা যায়, পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা একটি রো রো (বড়) ফেরিতে অল্প কয়েকটি বাস থাকলেও বহু মোটরসাইকেল রয়েছে। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুই-তিনজন আরোহীকে দেখা গেছে।

ঢাকা থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে খুলনায় যাচ্ছিলেন চাকরিজীবী শান্ত খান। কোনো বাধা ছাড়াই তিনি ঢাকা থেকে সরাসরি মোটরসাইকেল চালিয়ে দৌলতদিয়ায় এসেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমে বাসে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু বাসের কোনো টিকিট পাইনি। তাই আর অপেক্ষা না করে রাতেই সিদ্ধান্ত নিলাম, মোটরসাইকেল নিয়েই যাব। যদি পথে পুলিশ পথ আটকায়, তখন সেটা দেখা যাবে। তবে এখনো পথে কোথাও বাধার সম্মুখীন হইনি।’

গাজীপুরের মাওনা থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে রাজবাড়ীতে ফিরছিলেন একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম। সঙ্গে রয়েছে তাঁর স্ত্রী, এক শিশুসন্তান ও ব্যাগ। ফেরি থেকে নামার পর নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়া নিষেধ শুনেছি। কিন্তু কোনো উপায় নাই। বাসের কোনো সিট নাই। ঢাকার অধিকাংশ বাস পদ্মা সেতু দিয়ে যাচ্ছে। এই রুটে যেসব বাস রয়েছে, তার টিকিট নাই। তাই আজ খুব সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে রওনা দিয়েছি।’

default-image

সকাল সোয়া ১০টার দিকে দৌলতদিয়ার ৬ নম্বর ঘাটে আসে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি শাপলা শালুক। ফেরিতে দুটি যাত্রীবাহী পরিবহন ছাড়া আর কোনো গাড়ি নেই। রয়েছে কয়েকটি মোটরসাইকেল। আর শত শত যাত্রী, যাদের অধিকাংশ পোশাক কারখানার শ্রমিক।

সাভারের একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা রাকিবুল হক পরিবার নিয়ে ফরিদপুর গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর তাঁদের বাস ছাড়ে। এ ছাড়া নবীনগর এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টার মতো যানজটে আটকে থাকতে হয় বলে জানান তিনি।

তবে রাকিবুল হক স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘গত বছর অনেক কষ্ট হয়েছিল। সেই তুলনায় এ বছর অনেকটা স্বস্তির যাত্রা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষ ইচ্ছা করেই ঘুরে পদ্মা সেতু দিয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন। যে কারণে আমাদের পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাট অনেকটা চাপমুক্ত রয়েছে।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার গাড়ি পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ রয়েছে মোটরসাইকেল। গত বুধবার পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে ফেরিতে নদী পাড়ি দিয়ে দৌলতদিয়ায় পৌঁছায় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মোটরসাইকেল। গতকাল নদী পাড়ি দেয় প্রায় ২ হাজার ২০০ মোটরসাইকেল। এর ধারাবাহিকতায় আজও দেদার মোটরসাইকেল পার হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ঈদে নির্বিঘ্নে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নিশ্চিত করতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ছোট-বড় মিলে ২১টি ফেরি চালু রয়েছে। এ ছাড়া উভয় পাড়ে পাঁচটি করে ফেরিঘাট চালু রয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় অন্যবারের চেয়ে এ বছর যাত্রা অনেকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে।

মোটরসাইকেল চলাচল প্রসঙ্গে খালেদ নেওয়াজ বলেন, ‘ফেরিতে মোটরসাইকেল পারাপারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। মহাসড়কে এই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে কেউ যদি ঘাটে এসে পৌঁছায়, তাহলে আমরা তাঁদের নদী পারাপারের ক্ষেত্রে তো বাধা দিতে পারি না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন