default-image

টানা তিন দিনের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ এবং ফরিদপুরের আটরশির ওরসফেরত গাড়ির চাপে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা দিয়েছে। ঢাকাগামী এসব গাড়িকে ফেরিতে উঠতে অন্তত তিন-চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে কয়েক শ গাড়ির কয়েক হাজার যাত্রী বাড়তি দুর্ভোগে পড়েছেন।

আজ রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দের ফিডমিল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার লম্বা গাড়ির লাইন। কোথাও দুই লাইন, আবার কোথাও এক লাইনে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। অধিকাংশ যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী গাড়ি এবং ফরিদপুরের আটরশি ও চন্দ্রপাড়ার ওরসফেরত গাড়ি রয়েছে।

মানিকগঞ্জ থেকে যাত্রী নিয়ে ফরিদপুরের আটরশি গিয়েছিলেন বাসচালক মো. ফিরোজ হোসেন। রোববার সকালে ওরস শেষে মানিকগঞ্জে ফিরতে গিয়ে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। আলাপকালে তিনি বলেন, ‘প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ফেরিতে উঠতে মনে হয় আরও ঘণ্টা দুই লাগতে পারে। আমার মতো এ রকম বহুজনের গাড়ি ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

মহাসড়কের পাশাপাশি ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে টার্মিনাল এলাকা পর্যন্ত এক কিলোমিটারের বেশি লম্বা লাইনে শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মাগুরার গ্রামের বাড়ি থেকে গাজীপুর ব্যক্তিগত গাড়িতে নিজ বাসায় ফিরছিলেন ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তিন দিনের সরকারি ছুটি থাকায় স্ত্রীসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি এসেছিলাম। আজ সকালে বাড়ি থেকে রওনা করে দুপুরের আগেই দৌলতদিয়া ঘাটের কাছে এসে লম্বা লাইনে পড়তে হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় আছি।’

default-image

ফরিদপুরের গোয়ালেরটিলা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সোয়েব হাসান। তিনি পরিবারের সঙ্গে বাসে ঢাকায় রওনা করে দৌলতদিয়ায় যানজট দেখে বাস থেকে নেমে বিকল্প উপায়ে নদী পাড়ি দেন। এরপর পাটুরিয়া থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া করে রওনা করছেন। ঘাটে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার সময় রোববার দুপুরে বলেন, ‘এত যানজট দেখা দেবে ভাবিনি। বাধ্য হয়ে বাস পরিবর্তন করে পাটুরিয়া থেকে প্রাইভেট কার ভাড়া করে মোহাম্মদপুরের উদ্দেশে রওনা করেছি।’

জিরো পয়েন্টে দায়িত্বরত ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক তারক পাল বলেন, তিন দিনের ছুটি শেষে সবাই কর্মস্থলের দিকে ছুটছে। যে কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা ঢাকাগামী সব গাড়ির চাপ পড়েছে। একই সঙ্গে ফরিদপুরের আটরশির ও চন্দ্রপাড়ার ওরস শেষে গাড়ি ফিরতে থাকায় বাড়তি গাড়ির চাপ পড়েছে। যে কারণে অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ পড়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলে ১৬টি ফেরি চলছে। ঘাটে গাড়ির চাপ ছিল না। তিন দিনের ছুটি থাকায় অনেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এসব পরিবারের সবাই এখন ফিরতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ফরিদপুরে আটরশি ও চন্দ্রপাড়ার ওরস শেষে ফিরতে থাকায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপ পড়েছে। যে কারণে ঘাটে গাড়ির লম্বা সারি তৈরি হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন