default-image

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এখনো ঢাকামুখী শ্রমজীবী মানুষের ভিড় অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলার মাধ্যমে কঠোর লকডাউন কিছুটা শিথিল হওয়ায় এসব শ্রমজীবী মানুষ নিজ গন্তব্যে ছুটছেন। এ ছাড়া অনেকক্ষণ পরপর ফেরি ছাড়ায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও মানুষের চাপ থাকছে বেশি।

আজ রোববার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় অপেক্ষা করে দেখা যায়, ফেরিঘাট সড়কে কিছু সাধারণ পণ্যবাহী গাড়ির লাইন রয়েছে। দিনের বেলায় পণ্যবাহী বা সাধারণ গাড়ি পারাপার বন্ধ থাকায় এসব গাড়ি সন্ধ্যার পর ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় সিরিয়াল দিয়ে রয়েছে। প্রতিটি ঘাটে বড় ফেরি নোঙর করে রয়েছে। ৫ নম্বর ঘাটের পন্টুন সমস্যায় ভোর থেকে ঘাটটি বন্ধ রয়েছে। সেখানে মেরামতের কাজ চলছে। বাকি ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট চালু রয়েছে। এর মধ্যে দুপুরে একটি পণ্যবাহী ট্রাক ফেরি থেকে নামার পর পন্টুনের সামনের সড়কে বিকল হয়ে পড়ায় সাময়িক সময়ের জন্য ৪ নম্বর ঘাটটিও বন্ধ হয়ে পড়ে। শুধু ৩ নম্বর ঘাটটি চালু থাকলেও কর্তৃপক্ষ ফেরিঘাট সড়কে ইটের সোলিংয়ের কাজ করায় ধুলাবালুতে একাকার হয়ে পড়েছে। তার ভেতর দিয়ে ফেরিতে ছোট গাড়ির পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীরা আসা–যাওয়া করছেন।

কুষ্টিয়া থেকে আসা ঢাকাগামী ফরিদ হোসেন মিন্টু বলেন, পেটের তাগিদে এখন আবার ঢাকার দিকে ছুটতে হচ্ছে। কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ায় ঢাকায় বসে না থেকে গ্রামের বাড়ি ফিরে আসেন। এখন দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলায় ঢাকায় যেতে হচ্ছে। ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করা ফরিদ বলেন, ‘দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে কাজ হয়। কাজ করতে না পারলে নিজে খাব কী? পরিবারের সবাইকে খাওয়াব কী?’

বিজ্ঞাপন

কুষ্টিয়া থেকে আসতে সমস্যা হয়েছে কি না, তা জানতে চাইলে ফরিদ হোসেন বলেন, কুষ্টিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে আসতে সময় লাগে মাত্র দুই ঘণ্টা। সেখানে গণপরিবহন না থাকায় সারা রাস্তা ভেঙে ভেঙে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মাহিন্দ্রে করে আসতে সময় লেগেছে প্রায় চার ঘণ্টা। আবার ভাড়া গুনতে হয়েছে কয়েক গুণ।

default-image

পাটুরিয়া থেকে নদী পাড়ি দিয়ে আসা মানিকগঞ্জের বজলুর রহমান বলেন, ব্যবসায়িক কাজে ফরিদপুর যাচ্ছেন। কয়েক দিন তো সবকিছু বন্ধ ছিল। ফরিদপুর কয়েকজনের কাছে টাকাপয়সা পাবেন। তাঁরা লকডাউনের অজুহাতে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এখন বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছেন পাওনা টাকা তুলতে। করোনায় তাঁদের সবকিছু শেষ করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম বলেন, ৫ নম্বর ঘাটের পন্টুনের সমস্যা হলে দ্রুত মেরামত কাজ শেষ করে বেলা দুইটার দিকে চালু করা হয়। ৪ নম্বর ঘাটে একটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়লে সেটিকে রেকার দিয়ে টেনে তুলে ঘাট ফ্রি করে দেওয়া হয়। বর্তমানে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর তিনটি ঘাটই চালু রয়েছে। দিনের বেলায় সব কটি (ছয়টি) ছোট ফেরি চালু রয়েছে। যাওয়া ও আসা, সব সময় ফেরিতে শ্রমজীবী মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন