ঘাট পাড়ি দেওয়ার আশায় দীর্ঘ সময় বসে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন পণ্যবাহী গাড়ির চালক। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে তোলা
ঘাট পাড়ি দেওয়ার আশায় দীর্ঘ সময় বসে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন পণ্যবাহী গাড়ির চালক। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে তোলাছবি: এম রাশেদুল হক

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে দুদিন ধরে যাত্রীবাহী পরিবহনসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের অব্যাহত চাপ ছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে দুর্ভোগের কবলে পড়েন শত শত যানবাহনের যাত্রী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নদী পাড়ি দিতে না পারায় বাড়তি দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ।

তবে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে যাত্রীবাহী পরিবহনের চাপ অনেকটা কমে গেলেও পণ্যবাহী গাড়ির লম্বা লাইন অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার লম্বা লাইনে শুধু পণ্যবাহী গাড়ি নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে। লাইনে থাকা অধিকাংশ ঢাকামুখী গাড়ি দু-তিন দিন আগে আসা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী পরিবহন আগে ফেরিতে ওঠার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ায় এসব পণ্যবাহী গাড়ি আটকা পড়ে। দৌলতদিয়া ঘাটে গাড়ির চাপ কমাতে এসব গাড়ি ঘাট থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় আহ্লাদীপুর এলাকায় পুলিশ আটকে রাখে। ঘাটের পরিস্থিতি বুঝে পর্যায়ক্রমে আটকে থাকা গাড়ি ছেড়ে দেয় পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আজ সকালে দৌলতদিয়া ঘাটে দেখা যায়, ফেরিঘাট থেকে মহাসড়কের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার লম্বা লাইনে শুধু পণ্যবাহী গাড়ির লাইন। লাইনে গতকাল রাত ১০টা থেকে আটকে আছেন যশোর থেকে আসা চালক এরশাদ মণ্ডল। আলাপকালে তিনি বলেন, গতকাল সকালে গোয়ালন্দ মোড় এলে পুলিশ তাঁদের আটকে রাখে। সন্ধ্যার পর তাঁদের ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে দিলে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে প্রায় চার কিলোমিটার পেছনের লাইনে থাকেন। রাত শেষ হলেও এখন পর্যন্ত ফেরির নাগাল পাননি। এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা রাতে শৌচাগারসহ অন্যান্য সমস্যা নিয়ে সময় পার করছেন।

কুষ্টিয়া থেকে আসা পণ্যবাহী গাড়ির চালক কামাল হোসেন বলেন, গতকাল দিবাগত রাত দুইটার দিকে তাঁরা ঘাটে আসেন। এসেই লম্বা লাইনের পেছনের দিকে পড়ে আছেন। রাতে আটকে থাকা যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য জরুরি গাড়িকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে ফেরিতে ওঠার সুযোগ করে দেওয়ায় তাঁরা ফেরিতে উঠতে পারেননি। এর আগে গতকাল সকালে গোয়ালন্দ পৌঁছালে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। তাঁদের মতো গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় আরও প্রায় তিন কিলোমিটার লম্বা লাইনে কয়েক শ পণ্যবাহী ঢাকামুখী গাড়ি দৌলতদিয়া ঘাটে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারিসহ সরকারি তিন দিনের ছুটি থাকায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেকে রাজধানী ছেড়ে যায়। ছুটি শেষে এসব মানুষ এবং তাদের বহনকারী গাড়ি একত্রে গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে ছুটতে শুরু করে। পাশাপাশি ফরিদপুরের আটরশি ও চন্দ্রপাড়ার ওরসফেরতের গাড়িও ফিরতে থাকে। উভয় কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে গত দুদিন অসংখ্য গাড়ির চাপে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। তবে অধিকাংশ যাত্রীবাহী পরিবহন গতকাল রাতের মধ্যে নদী পাড়ি দেওয়ায় এখন সাধারণ পণ্যবাহী গাড়ি আটকা রয়েছে। সব কটি ফেরি সচল থাকলে হয়তো আজ রাত শেষে এসব গাড়ির চাপও আর থাকবে না।

default-image

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, দুই দিনের মাত্রাতিরিক্ত গাড়ির চাপে মানুষের ভোগান্তি থাকলেও অন্যায়ভাবে কাউকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে আগে পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। দৌলতদিয়া ঘাটে ক্রমানুসারে গাড়ি ফেরিতে উঠছে। এ ছাড়া ঘাটে অতিরিক্ত চাপ কমাতে গোয়ালন্দ মোড়ে সাধারণ পণ্যবাহী গাড়ি আটকে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে গোয়ালন্দ মোড় থেকে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন