বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে অনেকে বাস থেকে বের হতে পারছেন না। আবার কেউ কেউ দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ভয়ে গাড়ি থেকে নেমে বিকল্প উপায়ে নদী পাড়ি দিতে ব্যাগ-লাগেজ নিয়েই চলে যাচ্ছেন। ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন ঢাকার বাদশা গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান। তাঁদের বহনকারী বাসটি ফেরিঘাট থেকে প্রায় চার কিলোমিটার পেছনে রয়েছে। অনেক দেরি হবে তাই পরিবার নিয়ে বাস থেকে নেমে রিকশায় ফেরিঘাটের দিকে চলে যাচ্ছিলেন।

আজ সকাল ১০টার দিকে আলাপকালে মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আজ দুপুরে অফিসে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু গাড়ি যেখানে এসে থেমেছে তাতে মনে হচ্ছে ফেরি পেতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। তাই ফেরিতে ওঠার অপেক্ষা না করে গাড়ি থেকে নেমে রিকশায় ঘাটে চলে যাচ্ছি।’ এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা স্ত্রীও ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘এভাবে কী মানুষ পারাপার হতে পারে? কী করে সম্ভব ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা? ফেরি কেন তারা বাড়ায় না?’

খুলনার পাইকগাছা থেকে ১২টি পরিবারের নারী-শিশু মিলে প্রায় ৩০ জনের মতো খোলা ট্রাকে বসে আছেন। তাঁরা সবাই ইটভাটার শ্রমিক। যাচ্ছেন মানিকগঞ্জের কালামপুর এলাকায়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় ওপরে পলিথিন দিয়ে বসে আছেন তাঁরা। গাড়িতে থাকা আজিজুল ইসলাম নামের একজন জানান, তাঁরা গতকাল শনিবার বিকেলে রওনা করেছেন। সন্ধ্যায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে সিরিয়ালে আটকা পড়েন। কয়েক ঘণ্টা পর রাতেই তাঁদের ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন আজ সকাল ১০টার দিকে তাঁরা ফেরিঘাট থেকে প্রায় চার কিলোমিটার পেছনে। প্রায় ১৭ ঘণ্টা ধরে তাঁরা একইভাবে খোলা গাড়িতে আছেন। খারাপ আবহাওয়ার কারণে রাত-দিন তাঁদের এভাবেই কেটে যাচ্ছে। বৃষ্টি ও ঠান্ডার মধ্যে সবারই খারাপ অবস্থা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় জানায়, যানবাহন ও যাত্রী পারাপার নির্বিঘ্ন করতে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলে ২০টি ফেরি ছিল। এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুই দফায় চারটি ফেরি বিকল হলে মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। বর্তমানে ছোট-বড় মিলে ১৬টি ফেরি চলছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. জামাল হোসাইন জানান, বর্তমানে ছোট-বড় মিলে ১৬টি ফেরি চলছে, বাকি ৪টি বড় ফেরি ডকইয়ার্ডে। ফেরিস্বল্পতা ছাড়াও বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে এখনো ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এ ছাড়া দুই দিন ধরে ছোট ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বেড়েছে অনেক। গতকাল একেকটি বড় ফেরি শুধু ছোট গাড়ি নিয়েই ঘাট ছেড়েছে, যে কারণে যানবাহনের চাপ রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন