এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটের চাপ কমাতে ফেরিঘাট থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার আগে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় আহ্লাদীপুর এলাকায় পুলিশ গাড়ি আটকে দিচ্ছে। এ সময় পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়াও অনেক ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা পড়ছে। কিছু গাড়ি সিরিয়াল ভেঙে আগে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ মামলাও দিচ্ছে। এ ছাড়া মাইক্রোবাসসহ শত শত ব্যক্তিগত গাড়ি গোয়ালন্দের জমিদারব্রিজ ও পদ্মার মোড় এলাকা থেকে গোয়ালন্দ বাজার হয়ে উজানচর ও চরদৌলতদিয়া হয়ে অতিরিক্ত আরও আট কিলোমিটার পথ ঘুরে ফেরিঘাটে পৌঁছাচ্ছে। আজ সকালে প্রথম আলোর এ প্রতিবেদক সরেজমিন এমন দৃশ্য দেখতে পান।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, খুলনা থেকে গতকাল সন্ধ্যায় ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী দূরপাল্লার পরিবহন এখনো ঘাটে আটকে আছে। যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে কাঁচা পণ্যবাহী অনেক গাড়িও আটকে আছে। তরমুজবাহী কাভার্ড ভ্যানসহ পণ্যবাহী গাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার হওয়ার কথা বলে পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় দালালেরা অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। তারপরও ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টার আগে ফেরির নাগাল পাচ্ছে না।

default-image

বরগুনা থেকে প্রায় ২২ টন তরমুজ বোঝাই করে কাভার্ড ভ্যান নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন ফল ব্যবসায়ী আবুল বাশার। তিনি বলেন, গতকাল রাত আটটার দিকে রওনা দিয়ে ১১টার দিকে ঘাটে যানজটে আটকা পড়েন। ‘বিশেষভাবে’ ঘাট পার করে দেওয়ার কথা বলে তাঁদের থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকার টিকিট সাড়ে ৪ হাজার টাকা নেয়। তবু প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে গাড়ির সারিতে আটকে আছেন। গরমে অনেক তরমুজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রভাবশালী এক সদস্য, যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে তরমুজসহ বিভিন্ন কাঁচা পণ্য ও ফলের গাড়ি থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে। এতে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় কয়েক পুলিশ সদস্য।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন(বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে প্রায় ১১ হাজার ৫৯৩টি যানবাহন ফেরিতে নদী পাড়ি দেয়। ২৪ ঘণ্টায় ২১টি ফেরি ২৬৬টি ট্রিপ দেয়। নদী পাড়ি দেওয়া যানবাহনের মধ্যে ছোট বা ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল ৭ হাজার ১৯৬টি, মোটরসাইকেল ৩ হাজার ২০৩টি, বাস ৮১৫টি এবং ট্রাক ৩৭৯টি।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. শিহাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ডসংখ্যক গাড়ি পাড়ি দিয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ২১টি ফেরি চললেও গতকাল দুপুরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুটি ফেরি বিকল হয়ে পড়ে। পরে সন্ধ্যার আগেই ঠিক করা হয়। বর্তমানে ২১টি ফেরি ও ৫টি ঘাট সচল থাকলেও জরাজীর্ণ সড়ক এবং শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটের সব গাড়ি এই রুট ব্যবহার করায় অতিরিক্ত চাপ পড়েছে।

লঞ্চঘাটেও যাত্রীদের ঢল

দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে আজ সকালে দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল নেমেছ। গত শুক্রবার থেকে এই ঘাটে মানুষের ভিড় বাড়ছে। অধিকাংশ মানুষ ফেরিঘাটের যানজট এড়াতে লঞ্চে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন। প্রতিটি লঞ্চেও ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী পার হচ্ছে।

আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির দৌলতদিয়া ঘাট প্রতিনিধি নুরুল আনোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৬টি লঞ্চ ট্রিপ দিয়েছে। তবে ঝুঁকির কথা ভেবে রাত ১০টার পর থেকে লঞ্চে যাত্রী পারাপার অনেকটা বন্ধ থাকায় ট্রিপের সংখ্যা কম হয়েছে। তা না হলে আরও বাড়ত। ২৪ ঘণ্টায় লঞ্চে ৩০ হাজারের মতো যাত্রী পার হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন