বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খুলনা থেকে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাকের চালক আবুল হোসেন বলেন, ‘পণ্যবাহী গাড়ির ধর্মঘট থাকায় কয়েক দিন বসেই ছিলাম। কেউ কোথাও যেতে পারিনি। বৃহস্পতিবার রাতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর থেকে সবাই ছুটতে শুরু করেছে। শুক্রবার স্থানীয় একটু ঝামেলার কারণে আসতে পারিনি। পরে শুক্রবার রাতেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেছি। নদী পাড়ি দিতে ভোররাতের দিকে গোয়ালন্দ মোড় পৌঁছালে সেখানে বেশ কিছুক্ষণ আটকে থাকতে হয়। পরে সকালে ফেরিঘাটের দিকে রওনা হলেও সিরিয়ালে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে আটকে আছি।’

বাংলাবাজার ও শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ওই রুটের সব পণ্যবাহী ঢাকামুখী যানবাহন নদী পাড়ি দিতে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে অপেক্ষা করছে। যে কারণে দুই দিন ধরে বাড়তি চাপ রয়েছে।

ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রতিদিন সকালে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার ঢাকামুখী বাসগুলো দুপুরের দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছে। এরপর দুপুরে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা নানা ধরনের কাঁচামালবাহী গাড়িগুলো ছেড়ে এসে সন্ধ্যার দিকে ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস, কাঁচামালের গাড়ি, গবাদিপশু, মাছ ও জরুরি অন্যান্য গাড়ি আগে ফেরিতে ওঠার সুযোগ করে দেওয়ায় সাধারণ পণ্যবাহী গাড়ি সহজে ফেরির নাগাল পায় না। যে কারণে দুপুর পর্যন্ত অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে সাধারণ পণ্যের গাড়ি পার হলেও দুপুরের পর থেকে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস এবং কাঁচামালের গাড়ির কারণে সাধারণ পণ্যের গাড়ি সিরিয়ালেই আটকে থাকে। ফলে এসব গাড়ির লম্বা সিরিয়াল তৈরি হয়। এ ধরনের গাড়ি ঘাটে আসার পরও ফেরির নাগাল পেতে ৫-৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

যশোর থেকে আসা সুতাবোঝাই ট্রাকের চালক ইমদাদুল হক বলেন, ‘ধর্মঘটের কারণে রাতে রওনা করে আজ ভোরে গোয়ালন্দ মোড় আটকে ছিলাম। সকালে ফেরিঘাটের দিকে রওনা করে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সিরিয়ালে আছি। ফেরিতে উঠতে আরও হয়তো ঘণ্টা দুই সময় লাগতে পারে।’

ফরিদপুর থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘জরুরি কাজে ঢাকা গিয়ে কাজ শেষ করে রোববার রাতেই ফিরতে হবে। ঘাটের কাছে এসে এক ঘণ্টার ওপর ফেরির জন্য বসে আছি। আমার মতো আরও বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি এভাবে সিরিয়ালে আছে।’

এ সময় ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্টে (৩ নম্বর) কর্তব্যরত বিআইডব্লিউটিসির টার্মিনাল তত্ত্বাবধায়ক নুর মোস্তফা বলেন, ‘বর্তমানে সব কটি ফেরি চললেও আজ সপ্তাহ শুরুর দিন শনিবার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে পণ্যবাহী গাড়ির সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া তিন দিনের ধর্মঘট শেষে পণ্যবাহী গাড়িও ঢাকামুখী হওয়ায় গতকাল শুক্রবার থেকে চাপ পড়েছে। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি জরুরি গাড়ির সঙ্গে পণ্যবাহী গাড়িও পার করতে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন