দৌলতদিয়া ঘাট পার হওয়ার অপেক্ষায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যানবাহনের প্রায় তিন কিলোমিটার লম্বা সারি তৈরি হয়েছে। সোমবার দুপুরে দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাট এলাকায়
দৌলতদিয়া ঘাট পার হওয়ার অপেক্ষায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যানবাহনের প্রায় তিন কিলোমিটার লম্বা সারি তৈরি হয়েছে। সোমবার দুপুরে দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাট এলাকায়প্রথম আলো

বেশ কয়েক দিন ধরেই ফাঁকা ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট। তবে আজ সোমবার দুপুর থেকে হঠাৎ বাড়তে থাকে গাড়ির চাপ। বেশির ভাগ ছিল পণ্যবাহী গাড়ি। দুপুর না গড়াতেই ফেরিঘাট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির লাইনও দীর্ঘ হচ্ছিল।

ঘাট–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথে কয়েক দিন সব ধরনের ফেরি চলাচল করলেও রোববার থেকে বড় ফেরি বন্ধ। এরপর শুধু ছোট ফেরি চলছিল। যে কারণে অধিকাংশ পণ্যবাহী গাড়ি পারাপারের জন্য দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে এসে জড়ো হচ্ছে। এ ছাড়া নদীর পানি দ্রুত কমতে থাকায় দৌলতদিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ততম ৫ নম্বর ঘাটটি মধ্যম স্তর থেকে নামিয়ে নিচু স্তরে স্থানান্তরের কাজ করায় সোমবার কয়েক ঘণ্টা ঘাটটি বন্ধ থাকে। গাড়ির লম্বা সারি তৈরির এটিও অন্যতম কারণ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ঘাট ফাঁকা ছিল। ঢাকাগামী যানবাহনের তেমন চাপ ছিল না বললেই চলে। যেসব গাড়ি আসত, তা সরাসরি ফেরিতে উঠে যেত। কিন্তু রোববার দুপুর থেকে ঢাকাগামী গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার লম্বা সারি পড়ে যায়। নদী পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা গাড়ির মধ্যে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী গাড়ির সংখ্যাই বেশি।

বিজ্ঞাপন

মাদারীপুর থেকে আসা ময়মনসিংহগামী পণ্যবাহী গাড়িচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে বড় ফেরি পারাপার বন্ধ থাকার খবর শুনে সাতসকালেই দৌলতদিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে বসে আছি। আমার মতো আরও অনেক গাড়ি দীর্ঘপথ ঘুরে নদী পাড়ি দিতে দৌলতদিয়ায় আসছে।’

default-image

যশোর থেকে আসা ঢাকাগামী সাধারণ পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যানের চালক কুদ্দুস সরদার বলেন, রোববার সন্ধ্যায় রওনা হয়ে রাতে গোয়ালন্দ মোড়ে পৌঁছালে কর্তব্যরত পুলিশ গাড়ি আটকে দেয়। সারা রাত মোড়ে বসে থাকার পর সোমবার সকালে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে দেয়। ঘাটে এসে প্রায় চার ঘণ্টা বসে আছেন। এখনো সামনে যে গাড়ি আছে, ফেরিতে উঠতে আরও ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করতে হবে।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ বলেন, মূলত শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথে রোববার থেকে বড় ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় অধিকাংশ পণ্যবাহী গাড়ি নদী পাড়ি দিতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুট ব্যবহার করছে। তা ছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে দৌলতদিয়া ঘাট অনেকটা ফাঁকাই ছিল। হঠাৎ করে সোমবার দুপুর থেকে গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে।

আবু আব্দুল্লাহ বলেন, নদীর পানি দ্রুত কমতে থাকায় অধিকাংশ ঘাটে সমস্যা হচ্ছে। যে কারণে সোমবার বেলা সাড়ে ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যস্ততম ৫ নম্বর ঘাট মধ্যম স্তর থেকে নিচু স্তরে নামানো হয়। এতে যানবাহন পারাপার অনেকটা ব্যাহত হয়। আগের দিন রোববার একইভাবে ৪ নম্বর ঘাটটিও নিচু স্তরে বসানো হয়। এসব কারণে গাড়ির চাপ পড়ছে।

মন্তব্য পড়ুন 0