default-image

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে হামলায় সাতজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত গোয়ালন্দ পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র নজরুল ইসলাম মণ্ডলের ছোট ভাই মোস্তফা মণ্ডলসহ দুজনকে ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় শুক্রবার ভোরে পুলিশ বাকেন শেখ (৩৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মণ্ডল (৩৫), গোয়ালন্দ পৌরসভার জুড়ান মোল্লাপাড়ার আফজাল বিশ্বাস (৩০), দৌলতদিয়া ছিদ্দিক কাজীপাড়ার ইদ্রিস মণ্ডল (৩৫), আফতার মণ্ডল (৪৫), আবদুস সালাম (৩৫), কিয়ামদ্দিন পাড়ার সহিদ মণ্ডল (৩৮) ও হোসেন মণ্ডলপাড়ার রফিক সরদার (২৫)। মোস্তফা ও রফিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আফজাল হোসেন বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাটে বাড়ির সামনে ব্যক্তিগত কার্যালয়ে মোস্তফা মণ্ডলসহ ৬-৭ জন আড্ডা দিচ্ছিলাম। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৩০-৩৫ জন লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় বাকেন শেখ, আমজাদ হোসেনসহ অনেকে অবস্থান করছিলেন।’

পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে আহতদের অনুসারীরা দৌলতদিয়া ঘাট মহাসড়কে বিক্ষোভ করে বাকেন ও আমজাদের গ্রেপ্তারের দাবি করেন। পরে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বিজ্ঞাপন

খবর পেয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা মুন্সী, পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম মণ্ডলসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। সেখানে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে রাত ১০টার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় যান।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক ফকীর আমজাদ হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, মেয়র নজরুল ইসলাম মণ্ডল শপথ শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে এলাকায় ফেরেন। তাঁর লোকজন যাতে ঘাটে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে জন্য দৌলতদিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহমানের উপস্থিতিতে বাকেন, আমজাদের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন হামলা চালান। শুক্রবার দুপুরের আগে তাঁদের গ্রেপ্তার না করলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দৌলতদিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে কেন, সারা দিন আমি ঘাটেই ছিলাম না। তাহলে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকলাম কীভাবে? এটা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।’

পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, শপথ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় ফিরে তিনি বিশ্রামে ছিলেন। সন্ধ্যার পর এমন ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় তিনি হতভম্ব। জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, হামলার খবর পাওয়ামাত্র পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার ভোরে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে অভিযুক্ত বাকেন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন