বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঈদুল আজহা সামনে রেখে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে আজ শুক্রবার সকাল থেকেই ভিড় দেখা যায়। একদিকে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের ভিড়, বিপরীতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ছেড়ে আসা পশুবাহী গাড়ির সারি। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে শুরু করে প্রায় চার কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের জট দেখা গেছে।

ঘাট–সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দৌলতদিয়ায় ৭টির মধ্যে ছোট-বড় চারটি ঘাট সচল রয়েছে। নদীভাঙনের কবলে পড়ায় ১ ও ২ নম্বর ঘাট বন্ধ রয়েছে। সম্পতি বন্যার পানিতে পন্টুনের র‌্যামের মাথা তলিয়ে যাওয়ায় ৩ নম্বর ঘাট বন্ধ রয়েছে। সচল চারটির মধ্যে ৫ ও ৭ নম্বর রো রো (বড়) ফেরির ঘাট। এতে তিনটি করে ৬টি পকেট রয়েছে। ৪ ও ৬ নম্বর দুটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরির ঘাট। এতে মাত্র একটি করে পকেট রয়েছে। চারটি ঘাটের মাত্র ৮টি পকেট দিয়ে এই রুটে সচল ১৫টি ফেরিতে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

ঘাট–স্বল্পতায় ঢাকামুখী গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে। প্রখর রোদের মধ্যে থাকতে থাকতে ঢাকামুখী গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। একদিকে যাত্রীবাহী যানবাহন, অন্যদিকে ঢাকামুখী পশুবাহী গাড়ি। উভয় মিলে প্রতিদিন গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে।

এদিকে পাটুরিয়া ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিতে দক্ষিণাঞ্চলমুখী মানুষের ভিড় দেখা যায়। যানবাহনের সঙ্গে কয়েক শ করে যাত্রী ঘাটে নামতে থাকে। সামনে আরও বেশি ভিড় এড়াতে অনেকে এখনই ঢাকা ছাড়ছে।

default-image

ঝিনাইদহ থেকে আসা পূর্বাশা পরিবহনের যাত্রী মনির হোসেন ফেরিঘাটে বলেন, ‘প্রায় চার ঘণ্টা যানজটে আটকা ছিলাম। যানজট পেরিয়ে এখন ফেরিতে উঠব। ফেরিতে ওঠার লাইনেও ঘণ্টাখানেক ধরে অপেক্ষা করছি।’ তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাসে আর বসে থাকতে পারছেন না। বাইরেও বের হতে পারছেন না। ঘাটে মানুষের অনেক ভিড়। বাইরে বের হলেও করোনায় আরেক বিপত্তি ঘটতে পারে। তাই কষ্ট হলেও বাসেই বসে আছেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন বলেন, এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা ঘাট–সংকট। চারটি ঘাটের মাত্র ৮টি পকেট রয়েছে। বাকি তিনটি ঘাট বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেরির ট্রিপও বাড়ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, দৌলতদিয়ায় আরও ৩ নম্বর ঘাট চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঈদের আগে ৩ নম্বর ঘাট চালু করতে পারলে পাঁচটি ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার সহজ হবে। নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় একটু সময় লাগছে বলে জানান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন