বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রোববার দুপুরে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারিজ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার ছাড়িয়ে গাড়ির দীর্ঘ সারি। পণ্যবাহী গাড়ির সঙ্গে আছে যাত্রীবাহী বাস, কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।

৬ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট গাড়ি। ৫ ও ৭ নম্বর ঘাটে রয়েছে পণ্যবাহী গাড়ির সঙ্গে দূরপাল্লার পরিবহন। এ সময় পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিতে যানবাহনের সঙ্গে যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়।

মহাসড়কের ক্যানালঘাট এলাকায় ফেরির জন্য অপেক্ষমাণ ট্রাকের ওপর বিভিন্ন ধরনের মালামালের সঙ্গে দেখা যায় বেশ কয়েক শ্রমিককে। ট্রাকচালক আবদুর রব জানান, মাদারীপুর থেকে শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা করেন তাঁরা। বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে পৌঁছালে ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ তাঁদের আটকে দেন। ওই দিন বিকেল থেকে সারা রাত থাকার পর রোববার বেলা ১১টার দিকে তাঁদের ফেরিঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এভাবে খোলা ট্রাকের ওপর ওই শ্রমিকেরা দিনরাত পার করছেন।

ফেরিতে ওঠার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা প্রশান্ত সরকার। তিনি বলেন, পণ্যবাহী গাড়ির সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের লম্বা লাইন থাকা বর্তমান সময়ে অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু ছোট গাড়ি বা ব্যক্তিগত গাড়ির লম্বা লাইন দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা চরম বিরক্তিকর। কর্তৃপক্ষের উচিত ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নদীতে প্রচণ্ড স্রোত থাকায় দৌলতদিয়ার ৪ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় গত ৩০ আগস্ট তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এতে ৪ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া ফেরিঘাটসংলগ্ন সিদ্দিক কাজী পাড়া জামে মসজিদসহ স্থানীয় অন্তত পাঁচটি পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন–আতঙ্কে অন্যত্র সরে যায় প্রায় ২০টি পরিবার।

এ ঘটনার এক দিন পর ঘাট কর্তৃপক্ষ ফেরিঘাটের পন্টুনটি পাশে সরিয়ে ঘাট দিয়ে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামার ব্যবস্থা করে। কিন্তু তীব্র স্রোতের কারণে ওই ঘাটে এখন পর্যন্ত কোনো ফেরি ভিড়তে পারেনি। একইভাবে ৩ নম্বর ঘাটের সামনে স্রোত বেশি থাকায় সহজে ফেরি ভিড়তে পারছে না। শুধু ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট চালু আছে।
দৌলতদিয়ার ৭টি ঘাটের মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে ৩, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট। এর মধ্যে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট সার্বক্ষণিক সচল আছে। ফলে এখানে ঘাটস্বল্পতা আছে। এ ছাড়া ১৮টি ফেরির মধ্যে রোববার সকাল থেকে দুটি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভাসমান কারখানায় আছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন জানান, ১৮টি ফেরি থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটিতে সব সময় এক-দুটি ফেরি বসে থাকছে। এ ছাড়া বর্তমানে চারটির মধ্যে তিনটি ঘাট দিয়ে যানবাহন ফেরিতে ওঠানামা করছে। ঘাট ও ফেরির স্বল্পতা ছাড়া বাংলাবাজার-শিমুলিয়া রুটে ফেরি বন্ধ থাকায় সমস্যা প্রকট হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আবদুস সাত্তার জানান, রো রো ফেরি শাহ আলী, ভাষা শহীদ বরকত ও ইউটিলিটি শাপলা শালুক যান্ত্রিক ত্রুটিতে বসা আছে। তবে দিন শেষে এক-দুটি বের হয়ে যেতে পারে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন