বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ১৭ থেকে ১৮টি ফেরিতে গড়ে ট্রিপ হয় ২৪০-২৪৫টি। তীব্র স্রোতের কারণে সেখানে দুই দিন ধরে ট্রিপ দেওয়া হচ্ছে ১৯০-১৯৫টি।

আজ দুপুরে দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাটে আলাপকালে এক গাড়িচালক বলেন, গোয়ালন্দ মোড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে থাকার পর দৌলতদিয়া ঘাটের দিকে ছেড়ে দিলেও প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে তিনি আটকে আছেন। ফেরির নাগাল পেতে আরও কত ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে, তিনি জানেন না।

আজ সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ ফিডমিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার গাড়ির লম্বা সারি। এর মধ্যে বেশির ভাগ পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। এ ছাড়া ফেরিঘাট সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে পণ্যবাহী গাড়ির সঙ্গে আছে যাত্রীবাহী পরিবহন, ব্যক্তিগত গাড়িও। জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি চার-পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ফেরিতে ওঠার সুযোগ পেলেও সাধারণ পণ্যের গাড়ি ফেরির নাগাল পেতে আট-নয় ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কুষ্টিয়া থেকে তামাকবোঝাই কাভার্ড ভ্যান নিয়ে মানিকগঞ্জের উদ্দেশে গতকাল রাত ১০টার দিকে রওনা হন চালক আবু আবদুল্লাহ। রাত পৌনে ১২টার দিকে গাড়িটি গোয়ালন্দ মোড়ের আহ্লাদিপুর এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে প্রায় দুই কিলোমিটার লম্বা লাইনের পেছনে আটকা পড়েন তিনি। আজ ভোর সাড়ে চারটার দিকে আটকে থাকা পরিবহনগুলো ফেরিঘাটের দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটে অপেক্ষমাণ ইউটিলিটি ফেরি শাপলা শালুক দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর জানা যায়, সেটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে।

মাগুরা থেকে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, সাভারে যাওয়ার জন্য লোকাল বাসে করে স্ত্রীকে নিয়ে ঘাটে আসেন। বাস থেকে নামার পর নদী পাড়ি দিতে ফেরিঘাটে এসে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে অপেক্ষায় আছেন। তাঁর মতো অনেকে ফেরির পন্টুনে অপেক্ষা করছেন।

আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আবদুস সাত্তার প্রথম আলোকে বলেন, কিছুটা ফেরিস্বল্পতা থাকলেও মূলত পদ্মা ও যমুনা নদীতে পানি বাড়ায় স্রোত বেড়েছে। স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে ফেরির ট্রিপসংখ্যা অনেক কমে গেছে। যে কারণে উভয় ঘাটেই নদী পাড়ি দিতে আসা গাড়ির লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন