default-image

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে হুমায়ুন কবির (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যার অভিযোগে করা মামলায় এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তাঁরা।

গ্রেপ্তার দম্পতি হলেন নাছির উদ্দিন (৩৬) ও তাঁর স্ত্রী নাজমা আক্তার (৩৪)। নাছিরের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায়। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকার মেহেরাবাড়ি এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

নিহত হুমায়ুন বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মেহেরাবাড়ি এলাকায় সুলতানা সোয়েটার্স লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম এলাকা চরকালিকাপুর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের পাশ থেকে ওই ব্যক্তির পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরের দিন নিহত ব্যক্তির ভাই শহীদ দেওয়ান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার ভালুকার মেহেরাবাড়ি এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে নাছির ও তাঁর স্ত্রী নাজমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাসমত উল্লাহ বলেন, নাছিরের স্ত্রী নাজমার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে হুমায়ুনের। তিনি নাজমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি নাছির জানতে পারেন। হুয়ামুনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন নাছির। গত রোববার দুপুরে নাজমা মুঠোফোনে হুমায়ুনকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। এরপর নাছির ও তাঁর স্ত্রী পাথর দিয়ে মাথা ও মুখে আঘাত করে হুমায়ুনকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যান। নাজমার বাবার বাড়ি দৌলতপুরের বাঘুটিয়া দুর্গম চরে। নাজমা বেড়ানোর কথা বলে হুমায়ুনকে দৌলতপুরে ডেকে নেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) হাফিজুর রহমান বলেন, গতকাল দুপুরে আদালতে ওই দম্পতিকে হাজির করা হলে তাঁরা হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন