বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কিছুটা দূরে বসে ছিলেন উপজেলার পাঁচকাটিয়া গ্রামের গৃহবধূ সন্ধ্যা রাণী রায়। তিনি বললেন, ‘থাকার ঘর, রান্নাঘর, গোয়াল—সব জায়গায় জল। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানে থাকব।’

আন্দোলনে শরিক হওয়া নেবুগাতী গ্রামের সাবেক শিক্ষক ভগিরথ হালদার বলেন, ‘আমরা চাই দ্রুত টিআরএম চালু হোক। তাহলে ভবদহ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো যাবে।’

ছয় দফা দাবিতে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির ডাকে রোববার দুপুর থেকে ডিসি কার্যালয়ের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেছে জলাবদ্ধ ভবদহ অঞ্চলের মানুষ। আজ সোমবার দ্বিতীয় দিনে মতো কর্মসূচি শুরু হয় সকাল ১০টার দিকে, যা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

ওই ছয় দফা দাবি হলো প্রস্তাবিত প্রায় ৪৫ কোটি টাকার ‘ভবদহ ও তৎসংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ’ সেচ প্রকল্প বাতিল, ক্রাশ প্রোগ্রামে মাঘী পূর্ণিমার আগেই বিল কপালিয়া টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট বা জোয়ারাধার) চালু, ভবদহ স্লুইচগেটের ভাটিতে ৫–৬টি এক্সকাভেটর দিয়ে পাইলট চ্যানেল খনন ও ২১, ৯, ৬ ভেন্টের গেটগুলো ওঠানামার ব্যবস্থা করা, জনপদের ফসল, বাড়িঘরসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, কৃষিঋণ মওকুফ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমডাঙ্গা খাল সংস্কারকাজে প্রি-ওয়ার্ক ও পোস্ট ওয়ার্ক জনসমক্ষে টাঙিয়ে দেওয়া ও কাজের স্বচ্ছতা নিরূপণে আন্দোলনকারী সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে তদারকি কমিটি গঠন করা এবং সরকারকে মিথ্যা তথ্য প্রদান, নদী হত্যা, জনপদের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা, ফসল, বসতবাড়ি ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে জড়িত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির, কমিটির আহ্বায়ক রনজিত বাওয়ালী, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ, সদস্যসচিব চৈতন্য পাল, কমিটির নেতা অনিল বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, কার্ত্তিক বকসি, ভগিরথ হালদার, দীপঙ্কর বকশি, কমল মধু, যশোর জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্ক্সবাদী) সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান প্রমুখ। এ ছাড়া সংগতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক অনিল বিশ্বাস, বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম, যশোর শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদ হাসান প্রমুখ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন