সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া সমাবেশে বক্তব্য দেন আরকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (আরএসপিএইচ) নেতা ও রোহিঙ্গা শরণার্থী মো. জুবাইর, মাস্টার মো. ইউসুফ, মাস্টার আবুল কামাল, মাস্টার নুরুল আমিন। সমাবেশে মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে সাত দফা ঘোষণা পড়ে শোনান মাস্টার নুরুল আমিন। শুরু থেকে প্রচারণার সঙ্গে এআরএইচপিএইচ নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা জড়িত থাকলেও সমাবেশ হয়েছে ‘নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী’ ব্যানারে।

সাত দফা দাবিগুলো হচ্ছে দ্রুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল, দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ গ্রামে (রাখাইন রাজ্যে) পুনরায় প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া কার্যকর করা, রাখাইন রাজ্যে আইডিপি ক্যাম্প বন্ধ করা ও তাঁদের (রোহিঙ্গাদের) নিজ গ্রামে ফিরিয়ে নেওয়া এবং মিয়ানমারে নিরপরাধ লোকজনের ওপর (রোহিঙ্গা মুসলমান) অত্যাচার বন্ধ করা।

সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার কামাল উপস্থিত রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে প্রশ্ন করে জানতে চান, ‘তোয়ারা আরাকনত (রাখাইন রাজ্য) যাইত চ নে?’ অর্থাৎ, ‘তোমরা আরাকান রাজ্যে ফিরে যেতে চাও কি না?’ তখন উপস্থিত হাজারো রোহিঙ্গারা দুই হাত তুলে উচ্চকণ্ঠে আওয়াজ তোলেন, ‘আঁরা আরাকানত ফিরত চাই।’ অর্থাৎ, ‘আমরা আরাকানে (রাখাইন রাজ্যে) ফিরতে চাই।’ দুপুর ১২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে সমাবেশ শেষ হয়।

একই সময় উখিয়ার জামতলী (ক্যাম্প-১৮) আশ্রয়শিবিরের সিমকার্ড এলাকার খোলা মাঠে কয়েক হাজার রোহিঙ্গার উপস্থিতিতে ‘বাড়ি চলো’ কর্মসূচির সমাবেশ হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে চলে সমাবেশ। এ সমাবেশেও সাত দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সমাবেশে জামতলীর আশপাশের তিনটি আশ্রয়শিবির (ক্যাম্প-১৪, ১৫ ও ১৬) থেকে ১১ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা যোগ দেন।

default-image

সমাবেশে যোগ দিতে আসা জামতলী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা কলিম উল্লাহ (৫৫) বলেন, ‘বাড়ি চলো’ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন রোহিঙ্গাদের প্রিয় নেতা মুহিবুল্লাহ। তিনি এআরএইচপিএইচের চেয়ারম্যান ছিলেন। বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গারা মুহিবুল্লাহর গতিশীল নেতৃত্বে এবং মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী (আরসা) মুহিবুল্লাহকে রেহাই দিল না। গত বছর আরসার সদস্যরা গুলি করে হত্যা করে মুহিবুল্লাহকে। এর উদ্দেশ্য ছিল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখা। যে কারণে গত পাঁচ বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি মিয়ানমার। এখন তাঁরা মুহিবুল্লাহর ‘বাড়ি চলো’ প্রচারণা নিয়ে সামনে এগোচ্ছেন।

উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার নাঈমুল হক বলেন, দুপুর ১২টার মধ্যে রোহিঙ্গাদের ‘বাড়ি চলো’ প্রচারণা সমাবেশ শেষ হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে চলা রোহিঙ্গাদের একাধিক সমাবেশে সর্বোচ্চ ১০ হাজার রোহিঙ্গার সমাগম ঘটলেও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সমাবেশ শেষে আশ্রয়শিবিরের অভ্যন্তরে যেন কোনো ধরনের গোলযোগ কিংবা সংঘর্ষ না বাধে, সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন