নাটোরের গুরুদাসপুর
উপজেলার নন্দকুঁজা নদীতে সেতু না থাকায় এভাবেই দড়ি টেনে নৌকায় পারাপার হয় মানুষ
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নন্দকুঁজা নদীতে সেতু না থাকায় এভাবেই দড়ি টেনে নৌকায় পারাপার হয় মানুষপ্রথম আলো

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নন্দকুঁজা নদীতে সেতু না থাকায় যুগ যুগ ধরে উপজেলার বিয়াঘাট ও নাজিরপুর ইউনিয়নের লোকজনকে পারাপার হতে হচ্ছে নৌকায়। এখানকার খেয়াঘাটে নৌকায় মাঝি থাকেন না। নদী বরাবর টাঙানো হয়েছে দড়ি। সেই দড়ি টেনেই পারাপার হয়ে আসছে মানুষ। এতে লোকজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যুগ যুগ ধরে।

অবশেষে এলাকাবাসীর এই দুর্ভোগ শেষ হতে চলেছে। কারণ, ওই দুই ইউনিয়নের মাঝামাঝি বিয়াঘাট মোল্লাবাজার পয়েন্টে এবার নির্মিত হচ্ছে একটি সেতু। আর এর মাধ্যমে ওই দুই ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নন্দকুঁজা নদীর ওপর সেতুটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবদুল কুদ্দুস প্রধান অতিথি হয়ে এই নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এ উপলক্ষে মোল্লাবাজার সাংসদ মো. আবদুল কুদ্দুস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আজ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলাল শেখ, নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শওকত রানাসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিয়াঘাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নন্দকুঁজা নদীতে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় দুই ইউনিয়নের নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ আনন্দ মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

উপজেলা প্রকৌশলী আ ন ম মো. ওয়াহিদুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান, ‘সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ৯০ মিটার, ফুটপাতসহ প্রস্থ ৭ দশমিক ৩০ মিটার। সেতুটির প্রোটেকশন অ্যাপ্রোচ সড়কের দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে ৮৫ মিটার। সেতুটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৬৫ হাজার ৩২৯ টাকা। চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৫৭ হাজার ৪০৯ টাকা। চলতি বছরের ৭ এপ্রিল সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করার কথা থাকলেও বন্যার কারণে ওই তারিখ পিছিয়ে আজ (১০ নভেম্বর) উদ্বোধন করা হয়। নাটোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মীর হাবিবুল আলম কাজটি বাস্তবায়ন করছে। আগামী বছরের ২৩ মে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি নির্মিত হলে উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত বিয়াঘাট ও নাজিরপুর ইউনিয়নের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন হবে। তখন মানুষ খেয়া পারাপারের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবে। পাশাপাশি যাতায়াত–সুবিধার কারণে খেতের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা ও মোকামে বিক্রি করে ন্যায্য দাম পাবেন কৃষক। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ৯০ মিটার, ফুটপাতসহ প্রস্থ ৭ দশমিক ৩০ মিটার। সেতুটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৬৫ হাজার ৩২৯ টাকা। চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৫৭ হাজার ৪০৯ টাকা। আগামী বছরের ২৩ মে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
আ ন ম মো. ওয়াহিদুজ্জামান, উপজেলা প্রকৌশলী, গুরুদাসপুর

খেয়াঘাটের মাঝি মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ১২ হাজার টাকা বছর চুক্তিতে খেয়াঘাটটি ইজারা নিয়েছেন তিনি। সার্বক্ষণিক সুবিধার জন্য ঘাটে মাঝির পরিবর্তে দড়ি টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, নদীটির দুই পাশে পাকা সড়ক রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে লোকজন ওই সড়ক ধরেই চলাচল করে। কেবল ছাত্রছাত্রী আর কয়েকটি গ্রামের স্থানীয় লোকজন নৌকার ওপর নির্ভরশীল। গ্রামের লোকজন ভাড়া না দেওয়ায় লোক রেখে পারাপার করা ব্যয়বহুল। তাই দড়ি টেনে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

১২ হাজার টাকা বছর চুক্তিতে খেয়াঘাটটি ইজারা নিয়েছি। গ্রামের লোকজন ভাড়া না দেওয়ায় লোক রেখে পারাপার করা ব্যয়বহুল। তাই দড়ি টেনে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মো. আসাদুল ইসলাম, খেয়াঘাটের মাঝি

বিয়াঘাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক বলেন ‘দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় এলাকার মানুষ ও আমি সাংসদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এ কারণে ব্রিজটির নাম দেওয়া হয়েছে “বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. আবদুল কুদ্দুস সেতু”।’

সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংসদ মো. আবদুল কুদ্দুস বলেন, বছরের পর বছর ধরে এলাকার মানুষ তাঁর কাছে ব্রিজ নির্মাণের আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। অনেক চেষ্টার পর নির্মাণকাজ শুরু হলো। আর অল্প কয়েক মাস অপেক্ষা করলেই মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে। তখন সুফল পাবে মানুষ। বদলে যাবে এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0