বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে পানি বাড়ায় মদন ও খালিয়াজুরির বিভিন্ন হাওরের অন্তত ২০টি ফসল রক্ষা বাঁধ আবার হুমকির মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যে কীর্তনখোলা বাঁধের তিনটি অংশ মারাত্মক হুমকির মুখে আছে। কৃষকেরা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যেতে পারে শত শত একর জমির বোরো ধান।

নেত্রকোনা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত প্রথম আলোকে বলেন, ধনু নদের পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইলেও এখনো কোনো বাঁধ ভাঙেনি। তবে বেশ কিছু বাঁধে পানি ছুঁই ছুঁই অবস্থা। এর মধ্যে কীর্তনখোলা বাঁধের দু-তিনটি অংশ খুবই ঝুঁকির মধ্যে আছে। প্রশাসনের লোকজনসহ আগের মতোই বাঁধ রক্ষায় তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

default-image

খালিয়াজুরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম আরিফুল ইসলাম বলেন, ধনু নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধে পানির চাপ বেড়েছে। কীর্তনখোলা হাওরের বাঁধ নিয়েই সমস্যা। ফোল্ডার-২-এর আওতায় ৫৫ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে কীর্তনখোলা অংশে ৭ কিলোমিটার বাঁধ নদের তীরে হওয়ায় ঝুঁকি বেশি। তবে বাঁধ রক্ষায় তাঁরা এখনো মাঠে আছেন। এরই মধ্যে হাওরের প্রায় ৬০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। বাকি আছে ব্রি-২৯ জাতের ধান। ধানটি এখনো আধা পাকা। আর পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় পেলে ৯০ ভাগ ধান কাটা হয়ে যেত বলে তিনি জানান।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২ ও ৩ এপ্রিল চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর প্রভাব পড়ে নেত্রকোনার মদন ও খালিয়াজুরি হাওরে। মদনের ফতেপুর হাওর, খালিয়াজুরির কীর্তনখোলা, লক্ষ্মীপুর, কাটকাইলের কান্দাসহ কয়েকটি হাওরের বেড়িবাঁধের বাইরের অংশ তলিয়ে যায়। পরে অবশ্য পানি কিছুটা কমে যায়। কিন্তু তার আগেই হাওরের ১৩৩ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে যায়। আর লেপসাই, চৈতারা, আশাখালী, কীর্তনখোলা, ছাতিয়াসহ বিভিন্ন হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের অন্তত ২০টি স্থান হুমকিতে পড়ে। এসব বাঁধের কোথাও কোথাও ধস ও ফাটল ধরেছে। তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোর সংস্কারকাজও চলছে। বৃহস্পতিবার থেকে চেরাপুঞ্জিতে আবার বৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে নদে পানি বাড়ায় ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে। পাউবো ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোর ভাঙন ঠেকাতে কাঠ, বাঁশ, বস্তা, চাটাই ইত্যাদি দিয়ে লোকজন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

খালিয়াজুরি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, জেলায় এবার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৮৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১১ লাখ ৫০ হাজার ৫৭০ মেট্রিক টন ধান। এর মধ্যে খালিয়াজুরিতে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। হাওরের প্রায় ৬০ ভাগ ধান কাটা শেষ। বাকি ধান কাটতে আরও এক সপ্তাহের মতো সময় লাগবে।

লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক রইছ উদ্দিন ও পুরানহাটি গ্রামের কৃষক মনির হোসেন বলেন, নতুন করে ধনু নদের পানি বাড়ছে। তাই কৃষকেরা আতঙ্কের মধ্যে আধা পাকা হাইব্রিড ধান কাটছেন। অনেক খেতে এখনো সেভাবে ব্রি-২৯ ধান পাকেনি।

default-image

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হাওরে বৃষ্টি না হলেও উজানে অনেক বৃষ্টি হচ্ছে। আরও এক-দুদিন বৃষ্টি হতে পারে। তাই ফসল রক্ষা বাঁধের পাশাপাশি তাঁরা মাঠে অবস্থান করে দ্রুত ধান কাটতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। যেসব খেতের ধান ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পেকে যাচ্ছে, সেটা কেটে ফেলতে বলা হচ্ছে। ধান কাটার শ্রমিকের পাশাপাশি প্রচুর হারভেস্টর দিয়ে দ্রুত ধান কাটা হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরির সব হাওরের ধান কাটা শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন