default-image

পাবনায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন জেলাবাসী। কেউ মারা গেলে দাফনেও ভয়। এর মধ্যেই ঝুঁকি উপেক্ষা করে এগিয়ে আসে তহুরা-আজিজ ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক দেওয়ান মাহবুব কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে শুরু করেন দাফনের কাজ। করোনা মোকাবিলায় চালাতে থাকেন নানা কার্যক্রম।

প্রথম আলোর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার দুপুরে ‘করোনা মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধাদের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ’ জানাতে পাবনা বন্ধুসভার সদস্যরা হাজির হন তহুরা-আজিজ ফাউন্ডেশনে। ফুল ও অভিনন্দন স্মারক তুলে দেওয়া হয় দেওয়ান মাহবুবের হাতে। এ স্বীকৃতি পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন মাহবুব। এ আনন্দাশ্রু ঝরে উপস্থিত অন্যদের চোখেও।

দেওয়ান মাহবুবের তহুরা-আজিজ ফাউন্ডেশন ছাড়াও করোনা মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, পাবনা প্রেসক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়েলো ল্যাম্পকে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ফুল ও স্মারক দিয়ে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অল্প সমর্থনে আমি মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই প্রথম কেউ সেই চেষ্টার স্বীকৃতি দিল। এটা আমার জন্য পরম পাওয়া। আমি আনন্দিত, প্রথম আলোর কাছে কৃতজ্ঞ।
দেওয়ান মাহবুব, পরিচালক, তহুরা-আজিজ ফাউন্ডেশন

দেওয়ান মাহবুব বলেন, তাঁর জন্মের সময় চিকিৎসা না পেয়ে মা মারা যান। মাত্র সাত দিন বয়সে তিনি মাকে হারান। বড় হয়ে চাকরি নেন ওষুধ কোম্পানিতে। চাকরির সুবাদে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে দেখতে পান, চিকিৎসা না পাওয়া অসহায় মানুষের আহাজারি। মন নাড়া দেয় তাঁর। গরিব মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা হয় তাঁর। বিষয়টি খুলে বলেন বাবা অধ্যাপক দেওয়ান আজিজুল ইসলামকে। সন্তানের ইচ্ছার সমর্থন দেন বাবা। মাহবুবকে মানুষের সেবায় বাড়ির একাংশ ছেড়ে দেন আজিজুল। ২০১১ সালে সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হয় মা ও বাবার নামে তহুরা-আজিজ ফাউন্ডেশন।

মাহবুব জানান, ফাউন্ডেশনের তিনজন চিকিৎসক মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে ব্যবস্থাপত্র দিতে থাকেন দরিদ্র মানুষকে। কিন্তু এরপরও ওষুধ না কিনতে পারায় তেমন কোনো উপকারই হচ্ছিল না। পরে বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া শুরু করেন। সেই থেকে প্রতিষ্ঠানটি অসহায় মানুষকে বিনা মূল্যে রোগনির্ণয় করে ব্যবস্থাপত্র ও ওষুধ দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

দেওয়ান মাহবুব বলেন, করোনা পরিস্থিতি শুরুর পর থেকেই তাঁর প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবীরা সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মৃত ব্যক্তিদের দাফন করেছেন। অবরুদ্ধ (লকডাউন) দিনগুলোয় দরিদ্র পরিবারে খাবার সরবরাহ করেছেন তাঁরা। ঈদুল আজহায় প্রায় ২০০ পরিবারকে কোরবানির মাংস দেওয়া হয়। জনসচেতনতা তৈরি, মাস্ক বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি এখনো চলছে।
ফুল ও স্মারক হাতে নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাহবুব বলেন, ‘অল্প সমর্থনে আমি মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই প্রথম কেউ সেই চেষ্টার স্বীকৃতি দিল। এটা আমার জন্য পরম পাওয়া। আমি আনন্দিত, প্রথম আলোর কাছে কৃতজ্ঞ।’

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর মাহবুবের মতো সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে এগিয়ে আসেন বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে পাবনায় প্রথম আলোর পক্ষ থেকে বন্ধুসভার সদস্যরা ফুল ও স্মারক তুলে দেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আবদুল বাতেন, জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ, পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ রফিকুল ইসলাম, জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক জাহেদী হাসনাত, প্রেসক্লাবের সভাপতি এ বি এম ফজলুর রহমান ও ইয়েলো ল্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শহিদুল ইসলামের হাতে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর পাবনা প্রতিনিধি সরোয়ার মোর্শেদ, আলোকচিত্রী হাসান মাহমুদ, পাবনা বন্ধুসভার উপদেষ্টা শামসুন নাহার ও আবদুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক আনিকা তাসনিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুজ্জামান, সদস্য হামজা, ত্বোহা প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0