default-image

ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ শনিবার বেলা তিনটার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আজহারুল ইসলাম পুরকায়স্থ দিদার স্বাক্ষরিত এ–সংক্রান্ত সভার সিদ্ধান্তের কপি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে সন্ধ্যায় সরবরাহ করা হয়েছে। এই সঙ্গে শামীম আহমেদ মুরাদকে কারণ দর্শানোর নোটিশও পাঠানো হয়েছে। ওই নোটিশে কেন তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না মর্মে ২১ নভেম্বরের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব চাওয়া হয়েছে।

ধর্ষণচেষ্টার মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদসহ কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজুয়ান আলী খানকেও আসামি করা হয়েছে।

ধরমপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভার সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় গত বুধবার (১১ নভেম্বর) ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক বেগম মাফরুজা পারভীনের আদালতে বাদী আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ভাটারা থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন। এ মামলায় ধরমপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদসহ কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজুয়ান আলী খান আর্নিককেও আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় খবর ছাপা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
আমাকে ও আমার বন্ধু রেজুয়ান আলী খানকে জড়িয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাটি সাজানো একটি নাটক। উপজেলা আওয়ামী লীগের আমাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার কোনো এখতিয়ার নেই।
শামীম আহমেদ, ধরমপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
default-image

উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আজহারুল ইসলাম পুরকায়স্থ বলেন, সভায় ধরমপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেনের অনুপস্থিত থাকার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর পরামর্শে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ ওরফে বিলকিস। সভায় উপস্থিত সব নেতার মতামতের ভিত্তিতে অনৈতিক কাজের জন্য শামীম আহমেদ মুরাদকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।

এ বিষয়ে বহিষ্কৃত শামীম আহমেদ বলেন, ‘আমাকে ও আমার বন্ধু রেজুয়ান আলী খানকে জড়িয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাটি সাজানো একটি নাটক। আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। গত বছরের ১ অক্টোবর সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত একটি সভায় বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়ম তুলে ধরে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই আওয়ামী নামধারী একটি কুচক্রী মহল এলাকায় আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য এ ঘটনা সাজিয়েছে।’ কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো শোকজ নোটিশ পাইনি। উপজেলা আওয়ামী লীগের আমাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার কোনো এখতিয়ার নেই।’

মন্তব্য পড়ুন 0