উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল, গুরমা, গুরমার বর্ধিতাংশ, ঘোড়াডোবা, রুই বিল, সোনামড়ল, কাইলানী, জয়ধনা, ধানকুনিয়া—এই ৯ হাওর সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীন। এই ৯টি হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ বাস্তবায়নের জন্য সুনামগঞ্জ পাউবোর অধীন একটি জরিপ দল গত ১০ নভেম্বর থেকে ৯টি হাওরে জরিপকাজ শুরু করে। এই ৯টি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের দৈর্ঘ্য ২১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ২১২ কিলোমিটারের জরিপকাজ শেষ হয়েছে। গত ২০ নভেম্বর পিআইসি কমিটি গঠনের লক্ষ্যে প্রকৃত কৃষকদের বাছাইয়ের জন্য গণশুনানি শুরু হয় এবং ২৫ নভেম্বর তা শেষ হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, জরিপ, প্রাক্কলন তৈরি, গণশুনানি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনসহ অন্যান্য যাবতীয় কাজ ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা। কিন্তু হাওর থেকে পানি দেরিতে নামায় সব কাজ যথাসময়ে শেষ করা যায়নি।

নীতিমালা অনুযায়ী, পিআইসি গঠন শেষে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু করে তা আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে।

উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের জারারকোনা গ্রামের বাসিন্দা সোনামড়ল হাওরপাড়ের কৃষক মনোয়ার হোসেন (৩৫) বলেন, সময়মতো বাঁধের কাজ শুরু করা না হলে শেষও হবে দেরিতে। এতে আগাম বন্যা হলে বোরো ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধরমপাশা উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মজুমদার বলেন, হাওরের বোরো রক্ষায় ফসল রক্ষা বাঁধের জরিপ, প্রাক্কলন তৈরি ও হাওরপাড়ের প্রকৃত কৃষকদের নিয়ে পিআইসি গঠন করাসহ সব কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করা উচিত। এমনকি ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু করে তা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে। সময়মতো বাঁধের কাজ শুরু করা না হলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

সুনামগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী এবং উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব মো. ইমরান হোসেন বলেন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন করার কথা ছিল। কিন্তু হাওর থেকে দেরিতে পানি নামায় সেটি সম্ভব হয়নি। ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তাঁর আশা।

ধরমপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সভাপতি মো. মুনতাসির হাসান বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন