default-image

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার পদটি প্রায় দেড় বছর ধরে শূন্য। এতে খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এখানকার খাদ্য বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১২ জন কর্মচারীকে প্রতি মাসের বেতন পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেলিম হায়দার ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অন্যত্র বদলি হন। এরপর থেকে ওই পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন পাশের তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বি এম মুশফিকুর রহমান। গত প্রায় দেড় বছরে তিন–চারবার তিনি ধরমপাশা উপজেলায় এসেছেন। ফলে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে গিয়ে ধান, চাল, আটার মূল্য পর্যবেক্ষণ করা, ভিজিডি ও ভিজিএফ বরাদ্দ বণ্টনে ডিওতে স্বাক্ষর করা, ধান-চাল সংগ্রহ কমিটির মাসিক সভা ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির জরুরি সভাসহ এ–সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কার্যালয়ের আওতায় এ উপজেলার চারটি খাদ্যগুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ধরমপাশা ও মধ্যনগর বাজারে দুটি খাদ্যগুদাম চালু রয়েছে।

এই চারটি গুদামে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের অধীনে উপ–খাদ্য পরিদর্শক, সহকারী উপ–খাদ্য পরিদর্শক, নিরাপত্তা প্রহরীসহ ১২ জন কর্মচারী রয়েছেন। এসব কর্মচারীদের প্রতি মাসে বেতন উত্তোলন ও দাপ্তরিক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রাদি তাহিরপুর উপজেলায় নিয়ে গিয়ে তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর আনতে হয়। এতে তাঁদের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি সেখানে আসা–যাওয়া করতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির দুজন কর্মচারী বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর ধরে বেতনের কাগজপত্র ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাগজপত্র তাহিরপুর উপজেলা সদরে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সুদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।’

ধরমপাশা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বি এম মুশফিকুর রহমান রহমান বলেন, ‘নিজ কর্মস্থলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলা থেকে ধরমপাশা উপজেলায় আসা–যাওয়া করার জন্য যাতায়াতব্যবস্থা খুবই অনুন্নত। আমি যথাসাধ্য অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও অবহিত রয়েছেন।’

সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নকীব সাদ সাইফুল ইসলাম আজ শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেলার ১১টি উপজেলায় ১১ জন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৮ জন। ধরমপাশা, ছাতকসহ তিনটি উপজেলায় এই পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় যাতায়াতব্যবস্থা দুর্গম ও হাওর এলাকা হওয়ায় এখানে কর্মকর্তারা এসে বেশি দিন থাকতে চান না। পদগুলো শূন্য থাকায় কিছুটা সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি গত ছয় মাসে এই সমস্যা সমাধানের জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে দুবার চিঠি পাঠালেও এখনো এ সমস্যার সমাধান হয়নি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন