ধর্মঘটে খুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে উৎপাদন বন্ধ

বিজ্ঞাপন
default-image

বকেয়া মজুরি পরিশোধ, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন খুলনা অঞ্চলের পাটকলের শ্রমিকেরা। আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শ্রমিকেরা মিলের উৎপাদনকাজ বন্ধ করেছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ধর্মঘট হচ্ছে।

খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মুরাদ হোসেন বলেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ৬টা থেকেই শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু হয়ে গেছে। কাল বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত চলবে। ধর্মঘটের কারণে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত সব পাটকলে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বিকেল চারটায় প্রতিটি পাটকলের মিলগেটে শ্রমিক সমাবেশ হবে।

খুলনা অঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকল রয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় রয়েছে সাতটি ও যশোরে রয়েছে দুটি। খুলনায় থাকা পাটকলগুলো হলো-ক্রিসেন্ট জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, প্লাটিনাম জুট মিল, স্টার জুট মিল, আলিম জুট মিল ও ইস্টার্ন জুট মিল। আর যশোরের দুটি জুট মিল হলো, কার্পেটিং ও জেজেআই।

বিভিন্ন সংযুক্তিসহ শ্রমিকেরা ১১ দফা দাবি দিয়েছেন। এগুলো হলো—মিলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা বন্ধ করা, পিচরেট (ঘণ্টা অনুযায়ী) শ্রমিকদের গড় মজুরি দেওয়া, বকেয়া অবসর ও মৃত্যু বিমার টাকা পরিশোধ করা, নিজ নিজ মিলের পিএফ ফান্ডের টাকা আবার ওই ফান্ডে ফেরত দেওয়া, মৃত্যুজনিত শ্রমিকদের বিমা দাবি ৩৬ মাস হিসাবে পরিশোধ করা, টার্মিনেশন ও বরখাস্ত সব শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বহাল করা, শ্রম আদালত ও আপিল ট্রাইব্যুনালের যেকোনো রায় পুনর্বহাল রাখা, বদলি শ্রমিকদের স্থায়ী করা, শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে শ্রমিকদের কাজ বণ্টন করা, মিলের কর্মচারীদের নিয়োগ আবার মিলের কাছে হস্তান্তর করা, চাহিদা অনুযায়ী পাটের মৌসুমে পাট কেনার জন্য মিলগুলোকে পযাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া, পাটশিল্পকে কৃষিশিল্পে রূপান্তর করে ওই শিল্পের সব ধরনের সুযোগ দেওয়া, পাটের বাধ্যতামূলক মোড়কজাত নীতিমালা বাস্তবায়ন করা, বিদেশে পাটপণ্য বিক্রির জন্য দূতাবাসের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া, মিলগুলোর আধুনিকায়ন এবং আলিম জুট মিলের শ্রমিকদের ৪০ সপ্তাহের মজুরি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১১ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা।

এসব দাবিতে এরই মধ্যে ভুখা মিছিল, মিল গেটে প্রতীকী অনশন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকেরা ৮ ডিসেম্বর আমরণ অনশনের সমর্থনে গেট সভা ও শপথগ্রহণ এবং ১০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে নিজ নিজ মিল গেটে আমরণ গণ–অনশন কর্মসূচি পালন করবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন