বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিএসবিআরএ সহকারী সচিব নাজমুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে ভ্যাট কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে কারখানা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অভিযান পরিচালনা করায় ভুল–বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এখন থেকে কোনো কারখানার নথিপত্র যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে ভ্যাট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আগে বিষয়টি কারখানা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। কারখানা কর্তৃপক্ষ সেটি সরবরাহ করবে বলে একমত পোষণ করার পর কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএসবিআরএ সহসভাপতি ও সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ভ্যাট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের একটু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। বৈঠকে ভ্যাট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযানটি তাঁদের রুটিন ওয়ার্ক। জাহাজ ভাঙা কারখানার কর্তৃপক্ষ সব সময়ই অগ্রিম ভ্যাট দিয়ে আসছে। এরপরও ভ্যাট কর্মকর্তারা যখনই যে ধরনের সহযোগিতা চাইবেন, কারখানামালিকেরা সে ধরনের সহযোগিতা করবেন। ভ্যাট কর্মকর্তারাও তাঁদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। জব্দ করা সব নথিপত্র ও কম্পিউটার দু-এক দিনের মধ্যে যাচাই করে ফিরিয়ে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন ভ্যাট কর্মকর্তারা।

ফিরে গেছেন শ্রমিকেরা

সীতাকুণ্ডে মোট ১৫০টি জাহাজ ভাঙা কারখানার মধ্যে ৬০টি কারখানা সচল আছে। এতে ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করে বলে জানিয়েছে বিএসবিআরএ। বিএসবিআরএর ঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকেই প্রতিটি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি শ্রমিকেরা না জানার কারণে প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও কাজ করতে আসা শ্রমিকদের ফিরে যেতে হয়েছে। কারখানাগুলোতে সকাল সাতটা থেকে প্রথম শিফটে কাজ শুরু হয়। সকালে কাজে এসে শ্রমিকেরা কারখানা বন্ধ পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বুধবার সকাল সাড়ে নয়টায় উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের সাগর উপকূলে সাগরিকা শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড, টিআর শিপ ব্রেকার্স লিমিটেড ও প্যাসিফিক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডসহ কয়েকটি কারখানা এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানাগুলোর প্রধান ফটক বন্ধ। শুধু কারখানার নিরাপত্তাপ্রহরী ছাড়া সেখানে আর কোনো ধরনের কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা শ্রমিক খুঁজে পাওয়া যায়নি।

টিআর শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের সিকিউরিটি ইনচার্জ তন্তু রায় ত্রিপুরা প্রথম আলোকে বলেন, রাতেই কারখানার মালিকপক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য কারখানা বন্ধ। ফলে সকাল থেকে কোনো ধরনের গাড়ি কিংবা কোনো শ্রমিক কারখানায় প্রবেশ করতে পারবেন না। সে জন্য তাঁরা কাউকে কারখানায় প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। আজ সকালে কাজ করতে আসা শতাধিক শ্রমিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
প্যাসিফিক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডর সিকিউরিটি ইনচার্জ মাসুদ বলেন, তাঁদের কারখানার জাহাজ কাটা প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু কারখানা বন্ধ ঘোষণার পর নিরাপত্তাপ্রহরীরা কারখানার গেটে তালা দিয়ে ভেতরে অবস্থান নিয়েছেন।

ভাটিয়ারী এলাকায় চায়ের দোকানে কথা হয় হুইন্স মেশিনের অপারেটর মাহবুব মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, যে কারখানায় কাজ করেন, সেখানে এক মাস আগে যোগদান করেছিলেন। প্রতিদিনের মতো আজ সকালে কাজে গিয়েছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তাপ্রহরীর কারখানা বন্ধ বলে তাঁকে ঢুকতে দেননি। কেন কারখানা বন্ধ নিরাপত্তাপ্রহরীরা তা জানাতে পারেননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন