বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী ও সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামলাবাজ ও নলগড়া গ্রামের মধ্যবর্তী শয়তানখালী খালের ওপর একটি সেতু আছে। সেতুটি যান চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় প্রায় পাঁচ মাস আগে সেতুর দক্ষিণ পাশ দিয়ে একটি বিকল্প মাটির সড়ক বানিয়ে দেয় উপজেলা প্রশাসন। উজানে পাহাড়ি ঢল থেকে পানি এলে কংস নদে পানি বাড়ে। সেই পানি শয়তানখালী খালে ঢুকতে শুরু করে। এ অবস্থায় গত সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে ঢলের পানির চাপে ওই বিকল্প সড়কটি ভেঙে যায়। প্রবল বেগে পানি ঢুকতে শুরু করায় তখন এলাকার মসজিদে মসজিদে মাইকিং করেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে হলিদাকান্দা, সোনাজানা, সলপ, ভাটাপাড়া, রংপুর, মহদীপুর, দেওলা, রাজধরপুর, বাহুটিয়াকান্দা, নোয়াবন্দ, কামলাবাজ, নলগড়া, আবুয়ারচরসহ আশপাশের অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ সেখানে ছুটে যান। সোমবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খালে মাটি, বালুর বস্তা, বাঁশ পুঁতে উজানের পানি আটকে দেন এলাকার বাসিন্দারা। ফলে সেখানকার জালধরা, নয়াবিল, কাইঞ্জা, ধারাম, বন্নুয়া, টগা, শালকুমড়া, রুই কাইলানীসহ ছোট–বড় অন্তত ৩০টি হাওরের সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর বোরো জমির ধান রক্ষা পায়।

সদর ইউনিয়নের আবুয়ারচর গ্রামের কৃষক তোরাব আলী (৬০) ও নোয়াবন্দ গ্রামের কৃষক রুপ্পু মিয়া (৫৫) প্রথম আলোকে বলেন, কংস নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই পানি শয়তানখালী খালে ঢুকে পড়েছিল। খালে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে দেওয়ার জন্য গ্রামের মসজিদে মসজিদে মাইকিং করা হয়। খবরটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মুঠোফোনে জানানো হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ সেখানে ছুটে আসেন। কেউ মাটি ফেলে, কেউ বালুর বস্তা ফেলে, কেউ বাঁশ পুঁতে প্রাথমিকভাবে ঢলের পানি আটকে দেন। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাঁধের কাজ শেষ হয়।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবায়ের পাশা প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলার অন্তত ২০ গ্রামের কয়েক শ মানুষ শয়তানখালী খালে বাঁধ দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি আটকে দেওয়ার কাজটি সম্পন্ন করেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও খালের ওই বাঁধটি পরিদর্শন করেন। এ বাঁধ নির্মাণে তাঁরা জনগণের পাশে ছিলেন। এ কাজটি শেষ করায় সেখানকার বেশ কয়েকটি হাওরের কয়েক হাজার একর জমির ধান রক্ষা পেয়েছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলার শয়তানখালী খালে বাঁধ দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি আটকে দেওয়ায় উপজেলার অন্তত ৩০টি ছোট–বড় হাওরের প্রায় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর বোরো জমির ধান রক্ষা পেয়েছে। পানি কিছুটা কমছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে হাওরে পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হবে বলে আশা করছেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন