বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বরিশাল বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি ইশতিয়াক আহমেদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই ওই তরুণকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। পাশাপাশি আসামিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারের সময় থেকে তাঁর দণ্ড কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে রায়ের সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী বা স্বজন উপস্থিত ছিলেন না।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবর বিকেলে বোরহানউদ্দিনের বাসিন্দা বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য ওরফে শুভ নামের এক তরুণের ছবিসংবলিত ফেসবুক আইডি থেকে ধর্ম অবমাননামূলক কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে কয়েকজন ফেসবুক বন্ধুর কাছে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। যাঁদের এসব খুদে বার্তা পাঠানো হয়, তাঁরা এর স্ক্রিনশট নিয়ে ফেসবুকে দিলে লোকজন প্রতিবাদ জানানো শুরু করেন। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।

ওই দিনই সন্ধ্যার পর বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য বোরহানউদ্দিন থানায় তাঁর আইডি হ্যাক হয়েছে জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করতে আসেন। এ সময় পুলিশ বিষয়টি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিপ্লব বৈদ্যকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে পটুয়াখালীর মো. ইমন ও কামরুল ইসলাম শরিফ নামের দুই তরুণকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফেসবুকে এ কটূক্তির ঘটনায় বিপ্লব বৈদ্য, মো. ইমন, কামরুলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে পুলিশ।

আদালত সূত্র জানায়, ঘটনার পর বোরহানউদ্দিন থানার উপপরিদর্শক এসআই দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। মামলাটি তদন্তে ছিলেন ওই থানার তৎকালীন এসআই মোহাইমিনুল ইসলাম। পরে ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি মামলাটি তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিআইবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তদন্তভার ন্যস্ত হয় পিবিআইয়ের বরিশালের পরিদর্শক মাহফুজুর রহমানের ওপর।

তদন্তকালে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং জব্দকৃত মুঠোফোন ও অন্যান্য ডিভাইসের ফরেনসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বেরিয়ে আসে মামলায় গ্রেপ্তার বিপ্লব বৈদ্য, মো. ইমন ও কামরুল ইসলাম শরিফের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। মূলত বিপ্লব বৈদ্যের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে যে ফোন থেকে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল, সেই ফোনটি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার চাচুয়া গ্রামের বাপন দাসের। এরপর বাপন দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে বাপন দাস স্বীকার করেন বিষয়টি। এরপর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন