default-image

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার পানজোড়া এলাকা থেকে এক মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী (২৫) নিখোঁজ হন। পরদিন বালু নদ থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। প্রায় ১০ মাস পর গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করে নিশ্চিত হয়, তাঁকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় গতকাল রোববার রাতে এক যুবক গ্রেপ্তার হয়েছেন।

গ্রেপ্তার ওই যুবকের নাম রুবেল হোসেন (২১)। তিনি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নরুন মধ্যপাড়া এলাকার উসমান গনির ছেলে। ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আজ সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

গাজীপুর পিবিআই জানায়, গত বছরের ২৩ জুন সকালে বাসা হতে বের হয়ে নিখোঁজ হন ওই তরুণী। ২৫ জুন স্থানীয় বালু নদের নগরবেল থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে তাঁর লাশ উদ্ধার উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে ওই দিন তাঁর বড় বোন লাশটি শনাক্ত করেন। ওই সময় সবাই ধারণা করেন, মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় পানিতে ডুবে তাঁর (২৫) মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলাও হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নিহত তরুণীর লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, তাঁকে ধর্ষণের পর পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে ওই ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষণ মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সময়ে মামলাটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স গাজীপুর পিবিআইকে তদন্তের আদেশ দেয়। পরে তারা মামলাটি তদন্ত করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রুবেল হোসেনকে গতকাল রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন।

পিবিআই জানিয়েছে, আজ আসামি রুবেল হোসেনকে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে রুবেল উল্লেখ করেন, তিনি ও তাঁর সহযোগী আসামিরা স্থানীয় একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন। ওই তরুণী সেখানে চাকরির জন্য যান। আসামিরা তাঁকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কারখানার পাশে তাঁদের মেসে নিয়ে যান। সেখানে রুবেলসহ সহযোগীরা তরুণীকে ধর্ষণ করেন। এরপর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সিএনজি ভাড়া করে উলুখোলা ব্রিজে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে মুখ চেপে ধরে ব্রিজের রেলিংয়ের ওপর দিয়ে বালু নদে ফেলে হত্যা করা হয়।

পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন