default-image

চুয়াডাঙ্গায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণ এবং এবং ধর্ষণের সময় তোলা ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সদর থানায় মামলায় হয়েছে। ওই ছাত্রীর বাবা গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ছয় কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে।

গতকাল সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে শহরের বিভিন্ন মহল্লা থেকে ওই ছয় কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় ১৩ কিশোরকে আসামি করা হয়, যাদের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। এই মামলার এজাহারভুক্ত আরও ৭ আসামিকে ধরতে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।

মামলায় ১৩ কিশোরকে আসামি করা হয়, যাদের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। এই মামলার এজাহারভুক্ত ৬ কিশোর গ্রেপ্তার হয়েছে। আরও ৭ আসামিকে ধরতে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী মেয়েটি শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। সে তার বড় বোনের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। প্রায় আট মাস আগে মামলার ১ নম্বর আসামির সঙ্গে ওই ছাত্রীর ফেসবুকে পরিচয় ও পরে বন্ধুত্ব হয়। গত ২৫ মার্চ ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। ওই দিন বাড়ি ফেরার পথে দুপুর ১২টার দিকে সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের কাছে পৌঁছালে আসামিরা অপহরণ করে ১ নম্বর আসামির পরিবারের ভাড়া দেওয়া বাড়ির একটি টিনের ঘরে নিয়ে যায়। ওই আসামি জোরপূর্বক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে এবং তার মুঠোফোনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ও ছবি তুলে রাখে। স্কুলছাত্রী এ সময় সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও বাকি আসামিরা কেউই সাহায্যে এগিয়ে না এসে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে। পরে ঘটনাটি ওই ছাত্রী লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে না বলে গোপন রাখে।

বিজ্ঞাপন
এজাহারভুক্ত আসামিরা বয়সে কিশোর হলেও তাদের অপরাধের ধরন বড়দেরও হার মানাবে। এই কিশোরেরা যে কতটা ভয়ংকর, তা কল্পনাতীত। আজ মঙ্গলবার আসামিদের আদালতে তোলা হবে। সেই সঙ্গে ওই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)

ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে ১ নম্বর আসামি অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় ওই ছাত্রীকে প্রায়ই ডেকে নিয়ে টাকা দাবি করতে থাকে। টাকা না দিলে মুঠোফোনে ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার টাকা ও  স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়। সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল প্রধান আসামি তার সহযোগীদের মাধ্যমে ওই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে নতুন করে ১ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না পেলে ধর্ষণের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। অসহায় স্কুলছাত্রী বিষয়টি এবার বাড়িতে জানিয়ে দেয়। পরে পরিবার থেকে মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, এজাহারভুক্ত আসামিরা বয়সে কিশোর হলেও তাদের অপরাধের ধরন বড়দেরও হার মানাবে। এই কিশোরেরা যে কতটা ভয়ংকর, তা কল্পনাতীত। তিনি বলেন, এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে প্রধান আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। আজ মঙ্গলবার আসামিদের আদালতে তোলা হবে। সেই সঙ্গে ওই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

বেলা তিনটার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আসামিদের থানা থেকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন