বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গতকাল ওই নারীর কোয়ারেন্টিন ১৪ দিন পূর্ণ হয়। কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪তম দিনে করোনা পরীক্ষা করতে হয়। কিন্তু গতকাল বিকেলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ডাক্তারি পরীক্ষার পর ওই নারীকে আবার কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন ওই নারী তাঁকে সেখান থেকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। আইনগত কারণে তাঁর দাবি পূরণ করা যায়নি। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে ওই কেন্দ্রে থাকা অন্যান্য নারী ও নারী পুলিশ সদস্যরা তাঁকে নিবৃত্ত করেন।

খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুপ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ওই নারী প্রথম দিন থেকেই কোয়ারেন্টিন থেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলতেন। একপর্যায়ে গতকাল তাঁকে ছেড়ে না দিলে ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। রাতে জেলা প্রশাসন, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে বুঝিয়েছিলেন যে তাঁর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল হাতে আসলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

ধর্ষণের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাইদ প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল দুপুরে ওই তরুণীর প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের ডিএনএ টেস্ট করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে হয়তো অনুমতি মিলবে। আদালতে অনুমতি পাওয়া গেলে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

খুলনা নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) সোনালী সেন প্রথম আলোকে জানান, মেয়েটি ওই ঘটনা ঘটার আগ থেকেই একটু আপসেট ছিল। তিনি কোয়ারেন্টিন মানতে চাচ্ছিলেন না। প্রথমদিকে খাওয়াদাওয়াও ঠিকমতো করতেন না। বারবার সন্তানদের কাছে যেতে চাইতেন।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান,অভিযুক্ত এএসআই মোকলেছুর রহমান জেলহাজতে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে, বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।

অভিযুক্ত মোকলেছুর রহমান খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কোর্ট সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি খুলনার পিটিআইয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন সেন্টারে ১ মে থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তের পর ওই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন