পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, আজ সকাল থেকে কাঠপট্টিঘাট এলাকায় নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখেন তাঁরা। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ রিয়ামের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনার এক ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার নয়াগাঁও এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে নদী থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের শরীরে প্রাথমিকভাবে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। রিয়াম, আলমগীরসহ পাঁচ তরুণ নেশাজাতীয় দ্রব্য খেয়ে পানিতে নেমেছিলেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। পরে অন্যরা পানি থেকে উঠতে পারলেও রিয়াম ও আলমগীর নিখোঁজ ছিলেন। লাশ দুটি উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

রিয়ামের ভাই মো. হাসান অভিযোগ করে বলেন, সোমবার বেলা দুইটার দিকে রুবেল (২৪), রনি (২৩) ও পারভেজ (২২) তাঁর ভাই রিয়ামকে ডেকে নিয়ে যান। বিকেলে রুবেল ও পারভেজ এসে জানান, আলমগীর তাঁদের মুঠোফোন ও ৭০০ টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। এর পর থেকে রিয়াম ও আলমগীরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই দিন রাতে ৮ থেকে ১০ জন লোক এসে আলমগীরের খোঁজ করেছিলেন বলে জানান তিনি।

মো. হাসান দাবি করেন, তাঁর ভাইয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। কোনো দ্বন্দ্বের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

আলমগীরের মামা মোহাম্মদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সোমবার ভাগনেকে ওর বন্ধুরা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কমলাঘাট এলাকায় নেশাজাতীয় পানীয় পান করিয়ে আমার ভাগনেকে ওরা মেরে পানিতে ফেলেছে। অপূর্ব নামের এক বন্ধুর সঙ্গে আলমগীরের ঝগড়া হয়েছিল। তখন ভাগনেকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।’

জানতে চাইলে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, লাশ দুটি উদ্ধারের পর মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পেলে মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় গতকাল মৃত দুই তরুণের বন্ধু রনি ও রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাঁরা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন