বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পাউবোর রাজবাড়ী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে গোয়ালন্দ-রাজবাড়ী-ফরিদপুরের ১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খাল খনন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। গত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে খননকাজ শেষ হয়। প্রায় ২৫ ফুট চওড়া এবং ৪ ফুট গভীর খননকাজের চুক্তিমূল্য ধরা হয় ৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ঢাকার মতিঝিলের টিটিএসএল-এসআর নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়।

পাউবোর তত্ত্বাবধানে গোয়ালন্দের দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা এলাকায় পদ্মা নদী থেকে ছোটভাকলা ইউপির কেউটিল হয়ে বয়ে আসা ফরিদপুর পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালটি খনন শুরু হয়। এর মধ্যে গোয়ালন্দ উপজেলা এলাকায় রয়েছে প্রায় ১১ কিলোমিটার। খালের অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত ঢাল বা জায়গা রাখা হয়নি। এ ছাড়া সেতুসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গার্ডার, সিসি ব্লক, জিও ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন থাকলেও সেসব করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে খালে তীব্র স্রোত থাকে। এতে গত দুই বছর দেবগ্রামের তেনাপচা এলাকায় খালের দুই পারে প্রায় এক কিলোমিটারে বিভিন্ন স্থান ধসে গেছে।

ছোটভাকলা ইউনিয়নের কেউটিল ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম তেনাপচা এলাকায় দেখা যায়, খালে দিয়ে পদ্মার পানির প্রবাহিত হচ্ছে। সেখানে খালের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন স্থান ধসে গেছে। গ্রামের লোকজনের চলাচল এবং কবরস্থানে যাওয়ার কাঁচা রাস্তার ধসে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। খালের ওপর দিয়ে যাওয়া আরসিসি সেতুর পাশ থেকে মাটি ধসে গেছে। সেতুর কার্পেটিংসহ অনেকটা অংশ দেবে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, পাউবোর অপরিকল্পিত খাল খননের কারণে খালের পাড় ধসে পড়ছে। কেউটিলের আবদুল আজিজ মাস্টারের বাড়ির কাছ থেকে শুরু করে দেবগ্রামের প্রয়াত চেয়ারম্যান পিয়ার আলীর বাড়ির পাশ দিয়ে স্লুইচগেট হয়ে তেনাপচা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আইয়ুব সরদার (৫২) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘরের পেছনে দুই সারি গাছ লাগানো ছিল। ১০ ফুট চওড়া রাস্তা ছিল। রাস্তা থেকে খালের ঢালু ছিল আরও প্রায় ১২ ফুট। তার পাশ দিয়ে মেহগনিগাছ লাগানো ছিল। এখন রাস্তা, গাছ, ঢাল কিছুই নেই।

রাজবাড়ী পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী ও গোয়ালন্দের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল সরদার বলেন, খালের উভয় পাশে ঘর-বাড়িসহ অনেক স্থাপনা থাকায় নিয়মমাফিক খনন সম্ভব হয়নি। সিডিউল অনুযায়ী খনন করলে অনেক বসতভিটার ক্ষতি হতো। এ কারণে ঠিকাদার সাড়ে ছয় কোটি টাকার কাজ তিন কোটিতেই শেষ করেছে। জিও ব্যাগ, সিসি ব্লক বা এমন কিছুর জন্য বরাদ্দ ছিল না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন