রামপাড়া গ্রামের ৩৬ জন শ্রমিক ১৩ দিনে কাজ করে প্রায় ৩০০ মণ ধান নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ওই গ্রামের শ্রমিক রইস আলী বলেন, ঈদের আগে খেতের কাজ শেষ করে আসার জন্য আগাম ধান চাষ করেছেন, এমন গৃহস্থের সন্ধান করেছিলেন। খোঁজ পেয়ে তাঁরা নওগাঁর পতিসরের মাঝগ্রামে যান। সেখানকার তিন গৃহস্থ আগাম বোরো ধানের চাষ করেছিলেন। প্রতিদিন তাঁরা সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করেছেন। জমিভেদে এক মণ ধান কেটে ও মাড়াই করে গৃহস্থের ঘরে তুলে দেওয়ার পারিশ্রমিক হিসেবে নিয়েছেন ৫-১২ কেজি ধান। এভাবে ৩৬ জন শ্রমিক এই কাজ করে প্রায় ৩০০ মণ ধান পেয়েছেন।

রইস আলী আরও বলেন, বাড়িতে ধান আনার জন্য তাঁরা ১০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ট্রাক ভাড়া করেন। ধান তোলার পর তাঁরা ৩৬ জন শ্রমিক রোববার দিবাগত রাত ১২টার পর ট্রাকের ওপর চড়ে বসেন। সোমবার ভোরে রামপাড়া গ্রামে এসে পৌঁছান। এরপর তাঁদেরই একজনের বাড়ির আঙিনায় ধান নামান। এরপর শুরু হয়ে যায় ধান ভাগাভাগি করার কাজ।

সোমবার দুপুরে রামপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ধান ভাগাভাগি নিয়ে রীতিমতো উৎসব শুরু হয়ে গেছে। ৩৬টি পরিবারের সদস্যরা এসে জড়ো হয়েছেন। রইস আলী বললেন, ‘আমরা প্রত্যেকে আট মণ সাত কেজি কইরি ধান ভাগে পাইচি। এই ধান পাইয়্যা মুনে আমারে ঈদ আইজই হয়্যা গেল।’

রোববার রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নওটিকা গ্রামে একই রকম উৎসব দেখা যায়। সেদিন ছিল প্রচণ্ড রোদ ও গরম। আমবাগানের মধ্যে ধান ভাগাভাগির আয়োজন করেছিলেন। নাটোরের সিংড়া উপজেলার হুলহুলিয়া গ্রামে তাঁরা ২৮ জন ধান কাটতে গিয়েছিলেন। প্রত্যেকে ১১ মণ ১০ কেজি করে ধান ভাগে পেয়েছেন। কৃষিশ্রমিক আবদুল হালিম বললেন, ‘ঘরে লোতুন ধানের ভাত থাকলে ঈদটা আমরা একটু বুজতে পারি। এ জন্য কুনোবার ঈদ হয়, কুনোবার হয় না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন