বিজ্ঞাপন

আবহাওয়াও খারাপ ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে তাঁদের ঘোরাঘুরি করতে দেখে তরুণেরা এগিয়ে যান। কাওরাইদ এলাকার রাহাত আকন্দের ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় একটি স্কুলের কক্ষ খোলার ব্যবস্থা করেন তাঁরা। সেখানে শ্রমিকদের ঘুমানোর ব্যবস্থা হয়। তরুণেরা শ্রমিকদের জন্য সাহ্‌রি রান্না করেন সারা রাত ধরে।

ধান কাটার শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো এমন মানুষ আছে, বিশ্বাস ছিল না।’ বিশেষ করে এখন তরুণেরা মানুষের পাশে এভাবে দাঁড়ায় দেখে তিনি খুব খুশি। আশরাফুল বারবার বলছিলেন, ‘ছেলেগুলা খুব বালা।’ আরেক শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সারা রাত ছেলেগুলা ঘুমায় নাই। আমাদের ঘুমানোর ব্যবস্থা কইরা তারা রান্না করছে আমাদের জন্য। এমন দরদি মানুষ পাওয়া মুশকিল।’

রাহাত আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, ‘শ্রমিকেরা অসহায়ের মতো ঘোরাঘুরি করছিলেন। আমি এগিয়ে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বললাম। জানলাম তাদের থাকার জায়গা প্রয়োজন। তাৎক্ষণিক আমার আরও তিন বন্ধুকে ডেকে নিয়ে আসি। আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিই স্থানীয় একটি স্কুলে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করে দেব। স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কক্ষ খোলার ব্যবস্থা হয়। শ্রমিকদের ঘুমাতে দিয়ে তাঁদের জন্য আমরা সাহ্‌রির খাবার রান্না করেছি। আমরা নিজেরাও তাদের সঙ্গে সাহ্‌রি খেয়েছি।’

কাওরাইদ ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সাবেক সেনাসদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তরুণদের এই ধরনের কর্মকাণ্ডের খবর পেলে মনটা ভালো হয়ে যায়। খুব আশান্বিত হই আমরা। আসলে পৃথিবীটাই বদলে দিতে পারে দুর্জয় তারুণ্য। তাদের গড়ে উঠতে দিলে, স্বাধীনতা দিলে দেশটা সোনার দেশে পরিণত হওয়া ব্যাপারই না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন