ধান সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রার ৪ ভাগের ১ ভাগও পূরণ হয়নি, চালে শতভাগ অর্জন

ধান কিনে বস্তায় ভরা হচ্ছে
ফাইল ছবি

পঞ্চগড়ে এবার সরকারি খাদ্যগুদামে আমন ধান সংগ্রহের অভিযানে লক্ষ্যমাত্রার চার ভাগের এক ভাগও পূরণ হয়নি। ৫ উপজেলায় এবার ৫ হাজার ২১৭ মেট্রিক টন আমন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু ধান সংগ্রহ করা গেছে মাত্র ১ হাজার ২৯৩ মেট্রিক টন, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ২৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তবে চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার হাটবাজারে আমন ধানের দাম ভালো পেয়েছেন কৃষকেরা। এ ছাড়া সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে বেশি শুকানোসহ পরিশ্রম বেশি করতে হয় বলে বাইরে বিক্রিতেই আগ্রহ দেখিয়েছেন তাঁরা।

গত বছরের ৭ নভেম্বর শুরু হওয়া এই ধান-চাল সংগ্রহের অভিযান চলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, এবার পঞ্চগড় জেলার চারটি উপজেলায় কৃষক অ্যাপের মাধ্যমে ধান কেনা হয়েছে। কেবল জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার কৃষকদের মধ্য থেকে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে ধান কেনা হয়।
খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, সরকারিভাবে প্রতি কেজি আমন ধান ২৭ টাকা ও প্রতি কেজি চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪০ টাকা। একেকজন কৃষকের কাছ থেকে এক মেট্রিক টন করে ধান কেনার কথা ছিল।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ১ হাজার ৫৬ মেট্রিক টন ধান কেনার কথা থাকলেও সংগ্রহ হয়েছে ৮৬ মেট্রিক টন। বোদা উপজেলায় ১ হাজার ৩২৫ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে ৭১৪ মেট্রিক টন। দেবীগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন ধান কেনার কথা থাকলেও সংগ্রহ হয়েছে ২৬ মেট্রিক টন। আটোয়ারী উপজেলায় ৭৬৪ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে ৪৬ মেট্রিক টন। তেঁতুলিয়া উপজেলায় ৫৬১ মেট্রিক টন ধান কেনার কথা থাকলেও সংগ্রহ হয়েছে ৪২১ মেট্রিক টন। তবে জেলার ৫ উপজেলায় এবার ১২ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল, যার শতভাগ অর্জিত হয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার মৌসুমের শুরু থেকেই পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রতি মণ মোটা জাতের আমন ধান মানভেদে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে। চিকন জাতের ধান (আটাশ) প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা পর্যন্ত।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার ডুডুমারি গ্রামের কৃষক এনামুল হক বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামে পরিষ্কার, ঝরঝরে ও শুকনা (মিটার পাস) ধান দিতে হয়। এ জন্য ধান বেশি শুকাতে হয়। সরকার ধানের মণপ্রতি ১ হাজার ৮০ টাকা দেয়। কিন্তু বাইরে কম শুকানো ধান বেশি দামে বিক্রি করা গেছে। অনেক ফড়িয়া বাড়ি থেকেই ধান কিনে নিয়ে গেছেন।

বোদা উপজেলার ময়দান দীঘি এলাকার কৃষক তাহির উদ্দিন বলেন, এলএসডি গোডাউনে (সরকারি খাদ্যগুদাম) ধান দিতে গেলে পরিশ্রম বেশি। বাইরে কম শুকানো ধান সরকারি গুদামের চেয়ে কম দামে বিক্রি করলেও লাভ বেশি।

সরকারি খাদ্যগুদামে চাল বিক্রিতে অনাগ্রহ চালকলের মালিকদেরও। পঞ্চগড় সদর উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি থাকার কারণে আমাদের লোকসান হলেও চাল দিতে হয়েছে। প্রতি কেজি চালে আমাদের চার থেকে পাঁচ টাকা করে লোকসান গুনতে হয়েছে। সরকারি খাদ্যগুদামের জন্য কেনার ক্ষেত্রে চালের দাম না বাড়ালে আমাদের ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়বে।’

পঞ্চগড় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. রেজাউল হক খন্দকার বলেন, দেশের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ করে মজুত করা হয়। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রতিষ্ঠাও এর উদ্দেশ্য। এবার সরকারের সে উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।

রেজাউল হক বলেন, ‘খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহ করতে গেলে ১৪ শতাংশ আর্দ্রতা দেখে ও চিটা বাদ দিয়ে বিক্রি করতে হয়। এবার বাইরে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা হয়তো কম পরিশ্রমে বাইরে ধান বিক্রি করেছেন। তবে চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমরা শতভাগ সফল হয়েছি।’