বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী ও ধামরাই থানা সূত্রে জানা যায়, রিফাত ও সুজন পূর্বপরিচিত। দুজনই একই রাজনৈতিক দলের সমর্থক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রিফাত তাঁর বাড়ির সামনে সুজনকে দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জানতে চান, তিনি সেখানে কেন গিয়েছেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে রিফাত ঘর থেকে ধারালো দা এনে সুজনের হাতে আঘাত করেন। ঘটনাটি পার্শ্ববর্তী পাল্লী গ্রামের সুজনের বন্ধুরা জানতে পেরে ছুরি, চাপাতি, লাঠি নিয়ে রিফাতের বাসার সামনে এসে রিফাত ও তাঁর ভাই অর্ণবকে (২৮) মারধর করেন। রিফাতকে এলোপাতাড়ি কোপান তাঁরা। অর্ণবের মাথায় আঘাত করা হয়। আবদুর রশীদ তাঁদের বাধা দিতে গিয়ে নিজেও আঘাত পান।

রাত আটটার দিকে রিফাতকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আবদুর রশীদকে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অর্ণবকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে অর্ণবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত ব্যক্তির ভাগনে শেখ সজীবের (১৯) দাবি, কুল্লা ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) স্বতন্ত্র হিসেবে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন সুজনের আত্মীয় মো. সোলাইমান ইসলাম। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন কালীপদ সরকার। রিফাতের পরিবার অন্য একটি দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হলেও এবার কালীপদের সমর্থক ছিলেন। নির্বাচনে সোলাইমান হেরে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটান সুজনরা।

এদিকে সূয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জয়ী ও পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার সময় মো. নাসির উদ্দিন (৯৫) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশের দাবি, নির্বাচনী সহিংসতায় নয়, জমিসংক্রান্ত বিরোধে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।

ধামরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, সরেজমিনে জানা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধে নাসির উদ্দিনের সামনে তাঁর দুই নাতিকে মারধর করায় তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, কুল্লার ঘটনাটি পূর্বশত্রুতার জেরে হয়েছে।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির বাবা মামলা করেছেন। সুজন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর সূয়াপুরের ঘটনাটি দুই পরিবারের সদস্যদের জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে ঘটেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন