বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মোতালিব আল মোমিন জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বান্নাখোলা বাজার থেকে পথহারা সেতু পর্যন্ত সরকারি রাস্তার গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে মর্মে খবর দেন স্থানীয় লোকজন। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। এ সময় দেখা যায়, সরকারি রাস্তার দুই পাশ থেকে ২৫টি গাছ কেটে একটি ছোট মাঠে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া চাপিল থেকে নওগাঁও পর্যন্ত সরকারি রাস্তার দুই পাশ থেকে ৪০টি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়ে গেছে। প্রায় ২৫ বছর বয়সের মোট ৬৫টি মেহগনিগাছ ৯ লাখ টাকায় শধু ব্যাপারী ও মো. হানিফ আলী ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করেছেন সমাজ ও জাতি গঠনের (সজাগ) কর্মকর্তারা।

গাছ ক্রেতা মো. হানিফ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তো দোষ করি নাই। সজাগের ম্যানেজার মাসুদুর রহমানের কাছ থেকে দুজনে ৯ লাখ টাকা দিয়া গাছ কিনছি। গাছ কিনা অহন বিপদে পড়লাম। তারা যে আকাম কইরা রাখছে, এইডা তো আর আমরা জানি না।’

বেসরকারি সংস্থা সজাগের নির্বাহী পরিচালক আবদুল মতিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৯৯১-৯২ সালে কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন রাস্তার পাশে ২০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়। রাস্তাগুলো ব্যক্তিগত জায়গার ওপর দিয়ে করা হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় মেম্বাররা রাস্তা প্রশস্ত করা হবে জানিয়ে গাছ কাটতে বললে আমরা স্থানীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলে গাছগুলো বিক্রি করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা উপকারভোগী হিসেবে উপজেলা পরিষদ, রক্ষণাবেক্ষণকারী ও নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে রেখেছি।’

উপজেলা বন কর্মকর্তা মোতালিব আল মোমিন প্রথম আলোকে বলেন, সামাজিক বনায়ন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গেজেট ফরম ‘খ’ বিধি অনুযায়ী ৫-এর ‘ক’তে আবেদন করতে হয়। গাছ কর্তনের ক্ষেত্রে ফরম ৩-এ আবেদন করতে হবে। সংস্থাটির কোনো ধরনের চুক্তিপত্র বা নথি নেই। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তারা গাছ রোপণ করে পরে তা বিক্রি করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই প্রথম আলোকে বলেন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অনুমতি এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিলাম ব্যতীত কোনোভাবেই সরকারি রাস্তার পাশ থেকে গাছ কাটার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলা বন কর্মকর্তা এজাহার দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন