বরগুনা নদীবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় এমভি রয়েল ক্রুজ-২ ও এমভি পূবালী-১। এর মধ্যে এমভি রয়েল ক্রুজ-২ লঞ্চটিতে ধারণক্ষমতা ৮৩২ জন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এ লঞ্চে নিচতলা ডেক ও দোতলার ডেকে তিলধারণের ঠাঁই নেই। যাত্রীরা জায়গা না পেয়ে লঞ্চের ছাদে চাদর বিছিয়ে বসার স্থান করে নিয়েছে।
লঞ্চটিতে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ঢাকা যাচ্ছেন পাথরঘাটা উপজেলার রাশেদ, পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘লঞ্চে কোনোভাবে একটু জায়গা পেয়েছি। কপালে কী আছে জানি না। সুস্থভাবে ঢাকায় পৌঁছাব কি না, তা নিয়ে ভয়ে আছি। লঞ্চে কোনো প্রশাসনের লোক দেখা যাচ্ছে না।’

মেহেদী হাসান নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘লঞ্চে যাত্রীতে ঠাসা নিচতলা ও দোতলায় জায়গা না পেয়ে ছাদে জায়গা করে নিয়েছি। সারা রাত খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে।’

আমতলী-ঢাকা নৌপথে চলাচলকারী এমভি তরঙ্গ-৭ লঞ্চে যাত্রী ধারণক্ষমতা ৭০২ জন। তবে এটি আমতলী লঞ্চঘাট থেকে এক থেকে দেড় হাজারের মতো যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ঘাট ছেড়েছে।

আমতলী-ঢাকা নৌপথে চলাচলকারী এমভি তরঙ্গ-৭ লঞ্চে যাত্রী ধারণক্ষমতা ৭০২ জন। তবে এটি আমতলী লঞ্চঘাট থেকে এক থেকে দেড় হাজারের মতো যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ঘাট ছেড়েছে। একই পথে চলাচলকারী এমভি শতাব্দী বাঁধন লঞ্চের ধারণক্ষমতা ৮৯১ জন। ওই লঞ্চটিও একই পরিমাণ যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ঘাট ত্যাগ করে। ডেকে জায়গা না পেয়ে লঞ্চের ছাদে অবস্থান করেছেন যাত্রীরা। মাঝপথে লঞ্চ দুটি পুরাকাটা, আয়লা পাতাকাটা, কাঁকড়াবুনিয়া, ভয়াং, পায়রাকুঞ্জুসহ ছয়টি ঘাট থেকে যাত্রী তোলার কথা। এসব ঘাট থেকে অন্তত আরও এক হাজার যাত্রী লঞ্চে উঠবে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

অভিযোগ উঠেছে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। আগে আমতলী-ঢাকা প্রথম শ্রেণির সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ছিল ১ হাজার ৪০০ টাকা, ডাবল কেবিনের ভাড়া ২ হাজার ৮০০ টাকা এবং ডেকের যাত্রীদের ভাড়া ৪৫০ টাকা। ঈদের আট দিন আগে কোনো কারণ ছাড়াই এ ভাড়া বৃদ্ধি করে সিঙ্গেল কেবিনে ১ হাজার ৬০০ টাকা, ডাবল কেবিনে ৩ হাজার ২০০ টাকা এবং ডেকের ভাড়া ৫০০ টাকা করা হয়েছে।

default-image

তালতলী উপজেলার ছোট বগী গ্রামে কালাম সিকদার বলেন, এমভি তরঙ্গ-৭ লঞ্চের স্টাফরা তোশক বিছিয়ে অতিরিক্ত টাকায় আদায় করছেন। ম্যাজিস্ট্রেট আসার পরে তাঁরা তোশক সরিয়ে ফেলেছেন। কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর গ্রামের শাহীন বলেন, ‘লঞ্চের ডেকে তিনজনের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকায় জায়গা কিনেছি। টাকা না দিলে লঞ্চে জায়গা পাওয়া যায় না।’

এমভি তরঙ্গ-৭ লঞ্চের সুপারভাইজার হুমায়ুন কবির বলেন, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীর চাপ বেশি। তাই বেশি নেওয়া হচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ডেক থেকে বিছানা (তোশক) তুলে নেওয়া হয়েছে। এমভি শতাব্দী বাঁধন লঞ্চের সুপারভাইজার রফিক মিয়া বলেন, ঈদ উপলক্ষে লঞ্চে যাত্রীর চাপ বেশি। তাই কিছু যাত্রী বেশি নিচ্ছেন তাঁরা।

অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিএর বরগুনা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল ইসলাম বলেন, কোনোক্রমেই অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না। এমভি তরঙ্গ-৭ লঞ্চে অভিযান চালিয়ে যাত্রী হয়রানি বন্ধে ডেকের বিছানা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেকে কখনো বিছানা (তোশক) বিছিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করবে না বলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন