বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রকল্প এলাকার ২৯টি স্থানের মধ্যে ১০টিতে ভাঙন ঠেকাতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। বাকিগুলোতে এখনো সিসি ব্লক তৈরির কাজ শুরু হয়নি। দুটি ইউনিয়ন রক্ষার প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয় ২০১৯-২০ অর্থবছরে। বরাদ্দ হওয়ার কথা ৫৬৬ কোটি টাকা। কিন্তু এখন পর্যন্ত বরাদ্দ হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।

দুটি ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জরুরিভাবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ নদীতে ফেলে ভাঙন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এ ছাড়া বন্যার পানি নেমে গেলেও সিসি ব্লক তৈরির কাজ এখনো শুরু হয়নি। গতি না বাড়ালে আগামী বর্ষার আগেও রক্ষা প্রকল্পের কাজ শেষ হবে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সাংসদ ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদ বলেন, ৫৬৬ কোটি টাকার প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪০ কোটি টাকা। এর আগের বছর ১৫ কোটি টাকা। বরাদ্দের স্বল্পতার কারণে ঠিকাদার কাজ করছেন ধীরগতিতে। কোথাও কাজ বন্ধ আছে। বিল পাওয়ার নিশ্চয়তা ছাড়া ঠিকাদারদের কাজে গতি আসবে না।

হারুনুর রশিদ বলেন, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে চলতি অর্থবছরে অন্তত ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। সময়মতো কাজ না হলে ভাঙনে চরবাগডাঙ্গা ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাসহ ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিলীন হয়ে যাবে। তখন প্রকল্পটির উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।

৯ সেপ্টেম্বর চরবাগডাঙ্গার গোয়ালডুবি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ি ভেঙে ইট সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দা মহবুল ইসলাম (৫১)। তিনি বলেন, তাঁর তিন বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাড়ির ১০-১৫ ফুট কাছে এসে নদীর তীর ভাঙন থেমেছে। এ কারণে আগেই বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন।

মহবুলের বাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দূরে পদ্মা নদীর তীরে স্তূপ করে রাখা ছিল বালুভর্তি জিও ব্যাগ। চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য রফিকুল ইসলামসহ এলাকার লোকজন অভিযোগ করেন, প্রকল্প এলাকায় ভাঙন দেখা দিলে বালুর বস্তা ফেলে তা ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা পানি উন্নয়ন বোর্ডের। কিন্তু তাঁরা বালুর বস্তা ফেলেছে সামান্যই। তাতে ভাঙন রোধ হয়নি।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ময়েজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, গোয়ালডুবি এলাকায় খন্দকার কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা ২১ হাজার ৬০০ ব্লক রাখা ছিল নদীর তীরে। সেগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর দাম প্রায় আড়াই কোটি টাকা। হঠাৎ করে এমন ভাঙন ঠেকাতে প্রায় ছয়-সাত কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এত টাকা ওই মুহূর্তে বরাদ্দ পাওয়া সম্ভব ছিল না। তাই বালুর বস্তা ফেলা হয়।

কাজের ধীরগতি প্রসঙ্গে ময়েজ উদ্দীন বলেন, বর্ষার সময় কাজ ধীরগতিতেই চলে। নভেম্বর মাস থেকে ঠিকাদারের কাজের গতি বোঝা যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন