পুলিশ জানিয়েছে, দলীয় কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষরা গোলাম মোর্শেদকে আগে মারধর করেন। পরে গোলাম মোর্শেদের লোকজন নজরুলকে পাল্টা কুপিয়ে আহত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল চিকাশি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলেপ বাদশার সহযোগী গোলাম মোর্শেদ মাছের খাবার কেনার জন্য বাড়ি থেকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে তাঁর জলাশয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় চিকাশি বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা গতিরোধ করে গোলাম মোর্শেদকে মারধর করে টাকাগুলো ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনায় গোলাম মোর্শেদ বাদী হয়ে গতকাল নজরুল ইসলামসহ চারজনের নামে একটি মামলা করেন। মামলার বাকি তিন আসামি হলেন আবদুল সালাম (৩৮), হামজালা (৩৫) ও মজনু মিয়া (৫৫)।

অন্যদিকে গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় আড়কাটিয়া বাজারে একটি খাবারের দোকানে বসে ইফতার করেন আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম। ইফতারের পরে তিনি বাজারে কেনাকাটা করে বাড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন তিনটি মোটরসাইকেলে মুখোশ ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় ছয়জন বাজারে নজরুল ইসলামকে খুঁজতে থাকে। নজরুল ইসলাম পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আড়কাটিয়া সেতুর পশ্চিম পাশে যাওয়ার পর দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধরে ফেলে। তাঁরা নজরুল ইসলামকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে তাঁর কাছে থাকা ৩০ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা নজরুল ইসলামকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কুপিয়ে আহত ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে গতকাল আলেপ বাদশা ও বুলবুলসহ সাতজনের নামে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন খোকন মিয়া (৩৫), মোখলেছার (৪২), সিরাজ উদ্দীন (৪৫), সাকিল ইসলাম ওরফে সাদ্দাম (২০) ও ফারুক হোসেন (২৮)।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা প্রথম আলোকে বলেন, গোলাম মোর্শেদ ও নজরুলকে মারধর এবং টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা পৃথক দুটি অভিযোগ তদন্ত করে নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন