default-image

বগুড়ার ধুনট পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে বাদ পড়ছেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পদধারী দুই নেতাসহ চারজন। এই চারজনের বিষয়ে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী এ জি এম বাদশাহ সোমবার লিখিত অভিযোগ করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে ওই চারজনের নাম প্রত্যাহারের কথা আজ মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ভোট গ্রহণের দায়িত্বে দলীয় পদধারীদের থাকার সুযোগ নেই। ধুনট পৌরসভা নির্বাচনে ৯ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পাশাপাশি আরও কয়েকজনের প্যানেল তৈরির জন্য অতিরিক্ত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে। কিন্তু তিনি ৯ কেন্দ্রের জন্য ৯ জনকেই প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। এর মধ্যে পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেও চারজন কলেজশিক্ষক ছিলেন। ওই চারজনের ব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জি এম বাদশাহ লিখিত আপত্তি দাখিল করেন। এ ছাড়া চারজনের দলীয় পদ–পদবি রয়েছে বলে মঙ্গলবার প্রথম আলোতে প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই করে সত্যতা মিলেছে। এ কারণে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে প্রশিক্ষণ নেওয়া চারজনকে নির্বাচনী দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁদের জায়গায় সরকারি কর্মকর্তাদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে ওই চারজনের নাম প্রত্যাহারের কথা আজ মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন।

তৃতীয় ধাপে ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ধুনট পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন টি আই এম নুরুন্নবী। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। দলের ‘বিদ্রোহী’ হয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন বর্তমান মেয়র এ জি এম বাদশাহ। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। নির্বাচনে তাঁর প্রতীক জগ। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ইতিমধ্যেই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ জি এম বাদশাহ অভিযোগে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনে ৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য ৯ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ধুনট মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ফরিদুল ইসলাম, জি এম সি কলেজের প্রভাষক মেহেদী হাসান, মজনু আলম সরকার ও জাহাঙ্গীর আলমের নাম রয়েছে। তাঁরা ইতিমধ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা চারজনই নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের কাছে সশরীরে নৌকায় ভোট চাইছেন।

পরে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে চারজনের বিরুদ্ধে মেয়র প্রার্থী এ জি এম বাদশাহ নির্বাচন কমিশনে লিখিত আপত্তি তুলেছেন, তাঁদের মধ্যে ফরিদুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক, জাহাঙ্গীর আলম ধুনট উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি, মেহেদী ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জহুরুল ইসলামের ছেলে এবং মজনু আলম সরকার নৌকার প্রার্থী টি আই এম নুরুন্নবীর ভাতিজা। এ নিয়ে মঙ্গলবার প্রথম আলোতে সংবাদ প্রকাশিত হয় ‘প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হচ্ছেন আ.লীগ-যুবলীগ নেতারা’।

যে চারজনের বিরুদ্ধে আপত্তি, তাঁদের মধ্যে ফরিদুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক, জাহাঙ্গীর আলম ধুনট উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি, মেহেদী ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জহুরুল ইসলামের ছেলে এবং মজনু আলম সরকার নৌকার প্রার্থী টি আই এম নুরুন্নবীর ভাতিজা।

বগুড়া জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগে এ জি এম বাদশাহ উল্লেখ করেছেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা পদে প্রশিক্ষণ নেওয়া চার কর্মকর্তা নৌকার পক্ষে কাজ করায় তাঁদের দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাঁদের নির্বাচনী দায়িত্ব দিলে ভোট জালিয়াতি হবে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি ওই চারজনকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার আবেদন জানান।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে প্রশিক্ষণ নেওয়া ফরিদুল ইসলাম ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং জাহাঙ্গীর আলম ধুনট উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি পদে থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে মজনু আলম সরকার ও মেহেদী হাসানের দাবি, তাঁদের পরিবার আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেও তাঁরা দলীয় পদে নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন