বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বেড়েরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা নবাব আলী উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এর আগে সরকারি চাল চুরি, নারী ও শিশু নির্যাতন, ছিনতাই, মারধরসহ পাঁচটি মামলা দায়ের হওয়ায় দল থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন। স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, এসব মামলার পরও থেমে ছিল না নবাব আলীর অপরাধ জগতের কর্মকাণ্ড। বাঙ্গালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ইয়াবা বড়ি বিক্রি ও জুয়া খেলা ছিল তাঁর আয়ের প্রধান উৎস।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ গাবতলী উপজেলার কালাইহাটা গ্রামের শাহাদৎ হোসেন তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে শাহজাহানপুর উপজেলার শৈলধুকুড়ি গ্রামের নানাবাড়িতে যাচ্ছিলেন। রাত ১০টার দিকে বেড়েরবাড়ি বাবু বাজার এলাকায় নবাব আলী ও তাঁর সহযোগীরা মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে স্বামী-স্ত্রীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। পরে নবাব আলী ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের কাছ থেকে মোটরসাইকেল, ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ও এক ভরি ওজনের স্বর্ণ ছিনিয়ে নেন। পরে ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তিদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আসার আগেই নবাব আলী ও তাঁর সহযোগীরা পালিয়ে যান।

মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, শাহাদৎ পরদিন সকালে থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা নিতে চায়নি। ফলে শাহাদৎ বাদী হয়ে নবাব আলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ৭ এপ্রিল আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে আবেদনটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নেওয়ার জন্য ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। ১৯ এপ্রিল ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন।

থানার একটি সূত্র জানায়, নবাব আলী বাঙ্গালী নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন। এখন বালু তোলা বন্ধ থাকায় ইয়াবা বিক্রিসহ দাদন ও জুয়া খেলার ব্যবসায় নেমেছেন। এসব ঘটনা নিয়ে বিরোধের জেরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেই ১৬ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে নবাব আলী ও তাঁর সহযোগীরা বেড়েরবাড়ি বুড়িভিটা গ্রামের আরিফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৮ এপ্রিল নবাব আলীকে প্রধান আসামি করে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত আরিফুলের স্ত্রী সেফালি খাতুন। ঘটনার পর থেকে নবাব আলী ও তাঁর সহযোগীরা পলাতক। মামলার আসামি কাউকে পুলিশ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

পুলিশ বলছে, আওয়ামী লীগ নেতা নবাব আলীর বিরুদ্ধে ২০০৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সরকারি চাল চুরি, ছিনতাই, নারী ও শিশু নির্যাতন, মারধর, বর্তমান দুটিসহ মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর নিহত আরিফুলের বিরুদ্ধে পুলিশ মারধরসহ জুয়া ও মাদক সেবন আইনে আটটি মামলা ছিল।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, ঘটনার সময় ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা থানায় অভিযোগ না করে নবাব আলীসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। মামলাটি আদালতের নির্দেশে নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করে নবাব আলীসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন