বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কটিতে নিয়মিত পানি দেওয়া হয় না। এতে সারাক্ষণই থাকে ধুলার যন্ত্রণা। যাত্রী-পথচারীরা পথ চলতে গিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। এর বাইরে ধুলার উৎপাতে সড়কসংলগ্ন দোকানগুলোয় আলাদা করে বাঁধা হয়েছে পর্দা। এর মধ্যে ধুলার কারণে বেচাবিক্রি কমে আসার অভিযোগ কোনো কোনো দোকানির।
গতকাল শনিবার বেলা একটায় সড়কের চেরাগ আলী এলাকায় দাঁড়াতেই দেখা যায়, চারদিকে ধুলা আর ধুলা। কোনো যানবাহন এলেই ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে চারপাশ। এর মধ্য দিয়েই কোনোরকমে নাক-মুখ চেপে ধরে পথ চলছে লোকজন। সামনে পথ না দেখায় দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। ধুলার হাত থেকে বাঁচতে সড়কের দুপাশের দোকানগুলোয় আলাদা করে টাঙানো হয়েছে পর্দা।

সরেজমিন দেখা যায়, আবদুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচঢালাই উঠে গেছে। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। এসব গর্তে জমে আছে মাটি, বালু। এ ছাড়া সড়কের কিনারা ও বিভাজকের মাঝখানে জমে আছে বালুর স্তূপ। সড়কের ধারে পড়ে আছে ইটের খোয়া, বালু বা বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। এর মধ্যেই ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, রিকশা, অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে ধুলা ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে।

পরিপাটি পোশাক পরে রাজধানীর উত্তরায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম। নিজের বাইক চালিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পৌঁছান আবদুল্লাহপুর মোড়ে। কিন্তু এতটুকু আসতেই ধুলায় তাঁর অবস্থা নাকাল। একপ্রকার ধুলার আস্তরণ জমেছে তাঁর পুরো শরীরে। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে বাইক থেকে নেমে শরীর ঝাড়ছিলেন তিনি।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আবদুল্লাহপুরের খন্দকার সিএনজি পাম্পের সামনে কথা হয় আরিফুল ইসলামের সঙ্গে। বিরক্ত নিয়ে তিনি বলেন, ‘এইড্যা কোনো রাস্তা? একটা অনুষ্ঠানে যামু, অথচ দেহেন শরীরের কী অবস্থা। এভাবে কোথাও যাওয়া যায়? মনটাই খারাপ হয়ে গেল।’

এদিকে অতিষ্ঠ হয়ে নিজ উদ্যোগে সড়কে পানি দিতে দেখা গেছে কাউকে কাউকে। এর মধ্যে গতকাল বেলা দুইটার দিকে চেরাগ আলী এলাকায় আলম ও রাসেল নামের দুই ব্যক্তিকে সড়কে পানি দিতে দেখা যায়। তাঁরা ফুটপাতে ফলের ব্যবসা করেন। তাঁরা জানান, সড়কটিতে গত চার থেকে পাঁচ দিনে একবারও পানি দিতে দেখেননি তাঁরা। ধুলার কারণে দোকানে টেকার উপায় ছিল না, তাই বাধ্য হয়েই নিজেরা পানি দিচ্ছেন।
ওই দুজনের একজন আলম বলেন, ‘তাদের (প্রকল্পের লোকজন) মন চাইলে পানি দেয়, মন না চাইলে পানি দেয় না। মানুষের যত কষ্টই হোক, এ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। কিন্তু আমগোর তো ব্যবসা না কইরা উপায় নাই। তাই নিজেদেরই পানি দিতে হয়।’

জানতে চাইলে প্রকল্পের পরিচালক মহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পানি দেওয়া নিয়ে আমাদের একটি মনিটরিং টিম আছে। তাদের নিয়মিত পানি দেওয়ার কথা। এখন তারা কোনো ফাঁকিজুকি দিচ্ছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন