default-image

নওগাঁ শহরের প্রাণকেন্দ্র মুক্তির মোড় এলাকায় জেলা পরিষদ পার্ক সংস্কারকাজ এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রাখা রয়েছে। শহরবাসীর প্রাতর্ভ্রমণ ও অবসর কাটানোর একমাত্র জায়গা জেলা পার্কটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন নিয়মিত প্রাতর্ভ্রমণকারী ও দর্শনার্থীরা।

পার্কটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা নওগাঁ জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনা ও বিবর্ণ দশায় পড়ে থাকা জেলা পরিষদ পার্কটি নতুন রূপে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয় গত বছরের শুরুর দিকে। একটি প্রকল্পের আওতায় দরপত্র আহ্বান ও বাছাইপ্রক্রিয়া শেষে পার্ক সংস্কারের কাজ পায় নওগাঁর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফাহাদ এন্টারপ্রাইজ। কার্যাদেশ পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ ছয় মাস আগে শেষ হয়ে গেলেও কাজের তেমন অগ্রগতি নেই।

পার্কটি সংস্কারকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সংস্কারকাজের মধ্যে রয়েছে মূল ফটক নতুনভাবে তৈরি, পার্কের ভেতর পায়ে হাঁটার রাস্তা সংস্কার, পাঠাগার ও ব্যায়ামাগার সংস্কার, দর্শনার্থীদের বসার জন্য কংক্রিটের পাঁচটি ছাতা তৈরি ও সীমানাপ্রাচীরের সংস্কারকাজ। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায় গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি। সে অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ওই বছরের ১০ আগস্ট।

বিজ্ঞাপন
ফটক পুনর্নির্মাণের কথা থাকলেও কাজ শুরুই হয়নি। ভেতরে পায়ে হাঁটার জন্য রাস্তাগুলোর সংস্কারকাজ প্রায় ৫০ শতাংশ বাকি। ব্যায়ামাগার ও পাঠাগারে রং ও টাইলস বসানোর কাজও শেষ হয়নি।

বৃহস্পতিবার পার্কটিতে গিয়ে দেখা যায়, উত্তর ও দক্ষিণ পাশের ফটকে তালা ঝুলছে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত কোনো শ্রমিককে পার্ক এলাকায় দেখা যায়নি। উত্তর পাশে ফটকের সামনের রাস্তায় নির্মাণকাজের জন্য বালু স্তূপ করে রাখা। ফটক পুনর্নির্মাণের কথা থাকলেও কাজ শুরুই হয়নি। ভেতরে পায়ে হাঁটার জন্য রাস্তাগুলোর সংস্কারকাজ প্রায় ৫০ শতাংশ বাকি। ব্যায়ামাগার ও পাঠাগারে রং ও টাইলস বসানোর কাজও শেষ হয়নি। শুরু হয়নি সীমানাপ্রাচীরের সংস্কারকাজ।

পার্ক এলাকায় কথা হয় শহরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা ময়নুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, শহরের বাইরে শহরতলি এলাকায় কয়েকটি পার্ক থাকলেও শহরের ভেতরে একমাত্র পার্ক এটি। তাঁর মতো আরও অনেক ডায়াবেটিক রোগী পার্কটিতে প্রাতর্ভ্রমণে বের হতেন। কিন্তু সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন ধরে পার্কটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
পোস্ট অফিসপাড়া এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ সাবিনা খাতুন বলেন, তাঁর দুই ছেলে জেলা পরিষদ পার্কে প্রতিদিন বিকেলে দোলনাসহ বিভিন্ন রাইডে খেলাধুলা করত। কিন্তু গত এক বছর বাচ্চারা আর পার্কে ঢুকতেই পারে না। শহরের অন্য কোথাও খেলাধুলার ভালো পরিবেশও নেই।

পার্কের সংস্কার প্রকল্পের কাজের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি তানজিমুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও উত্তর দেননি।

নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আ ত ম আবদুল্লাহেল বাকী বলেন, করোনাসহ বেশ কিছু সমস্যার কারণে জেলা পরিষদ পার্ক সংস্কারকাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা যায়নি। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শুরুর পর করোনার কারণে দুই মাস কাজ বন্ধ ছিল। এ ছাড়া সংস্কারকাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় পার্কের ভেতরে হাঁটার রাস্তা ও পাঠাগার সংস্কারকাজে প্রথমে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী তুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। এগুলো তুলে আবারও সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। এসব করতে গিয়ে কাজ শেষ হতেও দেরি হচ্ছে।

প্রধান নির্বাহী আ ত ম আবদুল্লাহেল বাকী আরও বলেন, পার্কের ভেতরে হাঁটার রাস্তার কাজ এক মাসের মধ্যেই শেষ হতে পারে। এরপর পার্কটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন