বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
যে বা যাঁরা বলছেন, ভিন্ন দলের মেয়র থাকার কারণে সিলেটে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হচ্ছে, এটি পুরোপুরি ভুল ধারণা।
আসাদ উদ্দিন, মহানগর আ. লীগের সহসভাপতি

জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত ২৬ জুলাই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) এক সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের আয়তন প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এ ছাড়া নগরের বাসিন্দাও ক্রমশ বাড়ছে। ফলে সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করার দাবি দীর্ঘদিন ধরে ছিল।

এ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার মুখপাত্ররা বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে রয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত আরিফুল হক চৌধুরী। সরকারি দলের মেয়র না হওয়ার কারণে এখানে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে কি না, তা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন আছে। দলীয় কোনো ব্যক্তিকে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান করার উদ্দেশ্যেই এ সংস্থা গঠন করা হচ্ছে বলে সমালোচনাও হচ্ছে। তাই নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হলে এর চেয়ারম্যান পদে অবশ্যই দলমত-নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজনকেই বসানো উচিত হবে।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সিলেটের সহসভাপতি এ কে শেরাম বলেন, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সত্যিকার অর্থে কার্যকর হলে বিষয়টি অবশ্যই ভালো। নগরের সর্বস্তরের মানুষের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে এই কর্তৃপক্ষ কাজ করলে তবে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা ঠিক হবে না। এটা মূলত রাজনৈতিক কারণে করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান পদে একজন দলীয় সমর্থক ব্যক্তি থাকবেন, এটাই মূল উদ্দেশ্য। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে এই নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দ্বন্দ্ব তৈরি করবে। বরং সিটি করপোরেশনকে আরও ক্ষমতায়িত করা যেতে পারে।

মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, পরিকল্পিত নগর ও নাগরিকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা উচিত। আর যে বা যাঁরা বলছেন, ভিন্ন দলের মেয়র থাকার কারণে সিলেটে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হচ্ছে, এটি পুরোপুরি ভুল ধারণা। কারণ, যিনি মেয়র হিসেবে আছেন, তিনি এখন দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারের এমন উদ্দেশ্য থাকলে সেটা আগেই করা হতো। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন ও নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠান। এখানে দ্বন্দ্ব-বিভেদের সুযোগ নেই।

উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হলে সিটি কর্তৃপক্ষের হোল্ডিং ট্যাক্স নেওয়া আর জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ থাকবে না।
আরিফুল হক, মেয়র, সিলেট সিটি করপোরেশন

এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, যেখানে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আছে, সেখানে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্ব, রেষারেষি ও ঠেলাঠেলি আছে। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হলে সিটি কর্তৃপক্ষের হোল্ডিং ট্যাক্স নেওয়া আর জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ থাকবে না। নতুন ভবন নির্মাণের নকশার অনুমোদন, রাস্তাঘাট-নালা নির্মাণসহ যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তখন নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে পরিচালিত হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন