বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলায় এ জাতের তরমুজের আবাদ এটাই প্রথম বলে জানিয়েছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইমন হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ নতুন ও ব্যতিক্রম। স্থানীয়ভাবে এটি ‘মাল্টা তরমুজ’ হিসেবেও পরিচিত। দুই মাসের মধ্যে এর ফলন পাওয়া যায়। উৎপাদনে তেমন খরচও পড়ে না। পোকামাকড়ের উপদ্রব কম হয়। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করে এ জাতের তরমুজের আবাদ সম্ভব। প্রতিটি তরমুজ দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের হয়। বাঁশের মাচার ওপরে থাকায় তরমুজ বৃষ্টির পানিতে তেমন পচে না। দেখতে আকর্ষণীয় এবং খেতেও সুস্বাদু।

সম্প্রতি উপজেলার হাতিকাটা টরকী গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, খেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকেরা। মাচায় ঝুলছে তরমুজের ফুল ও ফল। হলুদ রংয়ে ভরে গেছে খেত। যেন হলুদের রাজ্য। তরমুজের ফল ও ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণে আবিষ্ট হয়ে আছে এলাকা। তরমুজখেত দেখে চোখ জুড়াতে ছুটে আসছেন আশপাশের এলাকার লোকজনও।

কৃষক সোহেল রানা বলেন, এইচএসসি পাস করে ২০০৮ সালে সৌদি আরবে চলে যান তিনি। গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন। ইউটিউব থেকে প্রাথমিক ধারণা নিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে বগুড়ার একটি নার্সারি থেকে ৭৫০টি চারা কেনেন এবং পৈতৃক জমিতে আবাদ শুরু করেন। এক মাসের মধ্যেই ফুল ও ফলন আসে। খেতে প্রায় ৫০০ তরমুজের ফলন হয়েছে।

তরমুজ চাষের শুরুতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নিয়েছেন সোহেল রানা। তিনি বলেন, এর মধ্যেই কিছু তরমুজ বাজারে বিক্রি করেছেন। প্রতিটি তরমুজ গড়ে ২০০–৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সোহেল রানাকে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে হলুদ তরমুজ চাষ শুরু করেন উপজেলার উত্তর টরকী এলাকার কৃষক মো. বাচ্চু মিয়া। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে তাঁর ১০ শতক জমিতে ব্যতিক্রম জাতের এ তরমুজের আবাদ করেছেন তিনি। ফলন আশানুরূপ হয়েছে। আগামীতে আরও বেশি জমিতে হলুদ তরমুজের আবাদ করবেন।

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, নতুন জাতের এ তরমুজের খাদ্যগুণ ও নান্দনিকতায় ক্রেতারা মুগ্ধ। এজন্য দাম ভালো। অল্প খরচে কৃষকেরা এ ফলের আবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে কৃষকেরা যাতে আরও ব্যাপক পরিসরে এ জাতের তরমুজের আবাদে উদ্বুদ্ধ হন, সেই পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন